Bartaman Logo
৯ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

একসঙ্গে ৩ ঢাক বাজানোর কৌশল রপ্তে মগ্ন ইন্দাসের মহিলা ঢাকিরা

পুজোয় একাধিক জায়গা থেকে বায়না এসেছে। তাই ইন্দাসের মহিলা ঢাকি দলের সদস্যদের এখন ব্যস্ততা তুঙ্গে। রোজ নিয়ম করে মহড়া দিচ্ছেন লতা, অসীমা, অনিমারা।

একসঙ্গে ৩ ঢাক বাজানোর কৌশল রপ্তে মগ্ন ইন্দাসের মহিলা ঢাকিরা
  • ৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: পুজোয় একাধিক জায়গা থেকে বায়না এসেছে। তাই ইন্দাসের মহিলা ঢাকি দলের সদস্যদের এখন ব্যস্ততা তুঙ্গে। রোজ নিয়ম করে মহড়া দিচ্ছেন লতা, অসীমা, অনিমারা। সাহসপুর গ্রামের দাসপাড়ায় গেলেই সকাল সন্ধ্যায় ঢাক বাজানোর নানা কেরামতি দেখা যাবে। কখনো দুই ঢাকির কাঁধে চেপে ঢাক বাজানো, কখনো একাই একসঙ্গে তিনটি ঢাক বাজাচ্ছেন মহিলারা। দর্শনার্থীদের আনন্দ দেওয়ার জন্য এমনই ঝুঁকিপূর্ণ সব কেরামতি শিখেছেন বলে তাঁরা জানিয়েছেন। তাঁদের দলে ১০ জন মহিলা রয়েছেন। 

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকবছর আগে গ্রামের পুজোয় বাইরের মহিলা ঢাকির দল ঢাক বাজাতে আসেন। তা দেখেই গ্রামের মহিলাদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়। এরপরেই নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনা করে একটি দল তৈরির পরিকল্পনা করেন। যেই ভাবনা সেই কাজ। শুরু হয় ঢাক বাজানো শেখার পালা। কিন্তু, প্রথম দিকে মহিলা ঢাকিদের অনেকেই বিদ্রুপ করতেন। তবে গ্রামেরই কয়েকজন পুরুষ ঢাকি তাঁদের সহযোগিতার হাত বাড়িতে দেন। শুরু হয় অনুশীলন, নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে ঢাক বাজানোর প্রায় সমস্ত কৌশল রপ্ত করে নেন। গ্রামের পুজোয় একযোগে ১০মহিলা পেশাদারি ভঙ্গিতে ঢাক বাজিয়ে তাক লাগিয়ে দেন। আর তা দেখে ধীরে ধীরে পাশের গ্রামের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁদের ডাক পড়ে। এভাবেই এলাকা ছাড়িয়ে তাঁদের ঢাকের সুরেলা বোল বহু দূরে পৌঁছে যায়। এবার পুজোতেও কয়েকটি জায়গা থেকে তাঁরা ডাক পেয়েছেন। তাই রোজ সকাল সন্ধ্যা তাঁরা রেওয়াজ করছেন। 
মহিলারা বলেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে সংসারের কাজকর্ম করতে হয়। অন্যের জমিতে দিনমজুরিও খাটতে যেতে হয়। তারপরেও সময় বের করে মহড়া দেওয়ার কাজ চলছে। দুর্গাপুজো ছাড়াও বছরের অন্যান্য সময়েও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাইরে থেকে বায়না আসে। তবে দুর্গাপুজোয় আলাদা আনন্দ পাই। চারদিন ধরে মণ্ডপে ঢাক বাজাই। বহু দর্শনার্থী আমাদের ঢাক বাজানো দেখেন। তাতে আমাদের উৎসাহ দ্বিগুণ হয়ে যায়। 
তাঁরা বলেন, আমরা প্রত্যেকেই একই রঙের শাড়ি পরে ঢাক বাজাই। মানুষকে আনন্দ দিতে ঢাক বাজানোর নানা কৌশল রপ্ত করেছি। একজনই একসঙ্গে একাধিক ঢাক বাজাতে পারে। দু’টি ঢাকের উপর দাঁড়িয়ে একসঙ্গে তিনখানা ঢাক বাজানো বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হলেও নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে আমরা তা রপ্ত করে ফেলেছি। একটা সময় অনেকেই ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করলেও এখন গ্রামের সকলেই আমাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে 
দেন। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ