Bartaman Logo
১৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মুখ পোড়ার ভয়! ভবানীপুরে ভোটপ্রচারে গেলেন না মোদি

প্রার্থী যত হেভিওয়েটই হোক না কেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানো অসম্ভব! তাঁর খাসতালুকে কেউ দাঁত ফোটাতে পারবে না। বিপুল ভোটে হারবেন বিজেপি প্রার্থী।

মুখ পোড়ার ভয়! ভবানীপুরে ভোটপ্রচারে গেলেন না মোদি
  • ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: প্রার্থী যত হেভিওয়েটই হোক না কেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানো অসম্ভব! তাঁর খাসতালুকে কেউ দাঁত ফোটাতে পারবে না। বিপুল ভোটে হারবেন বিজেপি প্রার্থী। সোজা কথায়, মুখ পুড়বে ভবানীপুরে! বাংলায় ভোটের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের তরফে আসা এমন রিপোর্টই কাল হল বিজেপির। বিধানসভা ভোটের প্রচারে গোটা বাংলা ঘুরলেও মমতা-গড় ভবানীপুরকে সযত্নে এড়িয়েই গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বয়ং!

Advertisement

অথচ শুরুটা এমন ছিল না। ভোট ঘোষণার ঠিক আগেই ব্রিগেড সমাবেশ দিয়ে বাংলা দখলের স্বপ্ন ফেরি করেছিলেন মোদি। তারপর নির্বাচনি প্রচারে দু’দফায় প্রায় ডজনদুয়েক সভা-সমাবেশ ও রোড শো করেছেন। রাজ্যের প্রায় প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনের প্রচারে তাঁকে দেখা গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এহেন ব্যাপক নির্বাচনি কর্মসূচির মানচিত্র থেকে বাদ পড়েছে শুধুমাত্র একটি বিধানসভা কেন্দ্র। আর সেটিই বাংলার সবথেকে হাই-প্রোফাইল আসন—ভবানীপুর! ভোটপ্রচার পর্বের গোড়ায় গেরুয়া শিবিরের তরফে জানানো হয়েছিল, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাসতালুকেই ছাব্বিশের মহারণের প্রচার শেষ করবেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু তা বাস্তব রূপ পেল না। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহলে তীব্র জল্পনা, এর নেপথ্যে অন্যতম প্রধান কারণই হল মুখ পোড়ার আশঙ্কা। এর ফলে এলাকার নীচুতলার বিজেপি নেতা-কর্মীদের একটি বড়ো অংশের মধ্যেই প্রবল ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। গেরুয়া নেতাকর্মীদের অধিকাংশই চেয়েছিল, ভবানীপুরে একটিবার প্রচারে আসুন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। পরিবর্তে তাঁরা পেয়েছেন মোদি সরকারের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে। বিজেপি প্রার্থীর মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিন ভবানীপুরে তিনি রোড শো করে গিয়েছেন। তবে তাতে সন্তুষ্ট নন হাই-প্রোফাইল কেন্দ্রের বিজেপি নেতাকর্মীদের বড়ো অংশই। দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে, ভোটের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপি নেতাদের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই ভবানীপুর বিধানসভা আসনে নির্বাচনি প্রচার এড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মোদি। দলীয় সেই মূল্যায়নের পরিপ্রেক্ষিতেই শীর্ষতম নেতাকে অযথা মুখ পোড়াতে দিতে রাজি হয়নি বিজেপির কেন্দ্রীয় পার্টি। 
গত ৫ এপ্রিল উত্তরবঙ্গ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ভোটপ্রচার শুরু করেছিলেন। শেষ করেছেন ২৭ এপ্রিল বারাকপুর দিয়ে। সব মিলিয়ে সারা রাজ্যে মোট ২১টি প্রচার কর্মসূচি। এছাড়াও যে-কোনো সমাবেশস্থলে পৌঁছানোর আগে ছোটো রোড-শো তো ছিলই। সেই হিসাবে রাজ্যে তাঁর রোড-শোয়ের সংখ্যা আরও বেশি। বাদ শুধুমাত্র মমতা-গড়! বিষয়টি নিয়ে যথেষ্টই কোণঠাসা হয়ে পড়েছে গেরুয়া শিবির। দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থকদের জন্য তৈরি করতে হচ্ছে ‘সাফাই’ও। সেইমতো বিজেপি সূত্রে ‘বর্তমান’কে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহ ভাগাভাগি করেই বাংলায় নির্বাচনি প্রচার করেছেন। তা মেনেই দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুরে শাহ। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়েছেন উত্তর কলকাতায়। রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘যেখানে মোদিজি গিয়েছেন, সেখানে অমিত শাহ যাননি। উলটোটাও হয়েছে। বিজেপিতে একটি সিস্টেম আছে। এর মধ্যে বিতর্ক নেই।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ