Bartaman Logo
১৯ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জঙ্গিপুরের বিস্তীর্ণ এলাকায় ফের শুরু ভাঙনের আতঙ্ক, সেচ সচিবের এলাকা পরিদর্শন

জঙ্গিপুরে নদী ভাঙনের আতঙ্কে স্থানীয়রা। সেচ সচিব রাজেশকুমার সিনহা এলাকা পরিদর্শন করেছেন। স্থায়ী সমাধানের আশায় এলাকাবাসী। বিস্তারিত পড়ুন।

জঙ্গিপুরের বিস্তীর্ণ এলাকায় ফের শুরু ভাঙনের আতঙ্ক, সেচ সচিবের এলাকা পরিদর্শন
  • ১৯ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: আষাঢ়ের মেঘ ঘনাতেই বুক কাঁপছে গঙ্গাপাড়ের হাজার হাজার মানুষের। বর্ষার মরশুম শুরু হতে না হতেই ফুঁসছে গঙ্গা। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জলস্তরও। ফলে জঙ্গিপুর মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকায় ফের শুরু হয়েছে তীব্র নদী ভাঙনের আতঙ্ক। ফরাক্কা, সামশেরগঞ্জ, সূতি ও রঘুনাথগঞ্জ সহ একাধিক ব্লকের নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের চোখে এখন শুধুই ঘুমহীন রাতের আতঙ্ক। ভুক্তভোগী মানুষের দাবি, দ্রুত ভাঙন রোধের স্থায়ী সমাধান করতে হবে। রাজ্য সরকারের বাজেটে অর্থ বরাদ্দ ও সেচ সচিবের এলাকা পরিদর্শনে আশার আলো দেখছেন এলাকাবাসী। সামশেরগঞ্জের বিধায়ক নুর আলম বলেন, চলতি মাসেই আমি সেচ দপ্তরে ভাঙন নিয়ে লিখিত আকারে জমা দিয়েছিলাম।সেচ দপ্তরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিকে এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শনের জন্য বলি। তিনি খুব দ্রুত সাড়া দিয়েছেন। আশা করি ভাঙন রোধের জন্য কিছু একটা করবেন। 

Advertisement

ফি-বছর বর্ষা এলেই এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায় নেমে আসে চরম বিপর্যয়। বিঘের পর বিঘে উর্বর চাষের জমি, মাথা গোঁজার পাকা বাড়ি, সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে গঙ্গা গ্রাস করে চলেছে একের পর এক জনপদ। বিশেষ করে সামশেরগঞ্জের পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। ইতিমধ্যেই ব্লকের ধানঘরা, হিরানন্দনপুর, ধুসরিপাড়া ও প্রতাপগঞ্জ, শিবনগর ও চাচণ্ডের মতো জনবহুল এলাকাগুলি মানচিত্র থেকে মুছে যাওয়ার জোগাড় হয়েছে। ভিটে মাটি হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন মানুষ। অনেকেই বাধ্য হয়ে পৈতৃক ভিটে ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন বাঁধের রাস্তায় বা অন্যত্র অস্থায়ী ডেরায়। 
সম্প্রতি রাজ্য সরকারের নতুন বাজেটে নদী ভাঙন রোধে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। তবে পরবর্তীতে রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, স্থায়ী ভাঙন রোধে মালদহ ও মুর্শিদাবাদ দুই জেলায় প্রায় ৩,৬০০ কোটি টাকার একটি মেগা প্ল্যান তৈরি করে তা কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। এই বিপুল অঙ্কের প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভাঙন সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে বলে আশা প্রশাসনের। প্রতাপগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দা রাধেশ্যাম মণ্ডল, মনিরুল শেখ ও জীবন দাসরা সবাই আতঙ্কিত। রাধেশ্যামবাবু বলেন, প্রতি বছর বর্ষা এলেই আমাদের ঘরবাড়ি হারানোর ভয় তাড়া করে বেড়ায়। জমি, বাগান সব নদীতে চলে গিয়েছে। আমরা স্থায়ী বাঁধ চাই যাতে রাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারি। এই চরম আতঙ্কের আবহে শুক্রবার দুপুরে ভাঙন কবলিত এলাকাগুলি সশরীরে পরিদর্শনে আসেন রাজ্যের সেচ দপ্তরের সচিব রাজেশকুমার সিনহা। তিনি সামশেরগঞ্জের অতি সংবেদনশীল এলাকাগুলি ঘুরে দেখেন এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ভাঙন রোধে কী কী আপৎকালীন ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা নিয়ে ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনাও করেন তিনি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ