সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই পর্যটন কেন্দ্রগুলিকে ঢেলে সাজানোর চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে। তাই পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরের ‘হীরক রাজার দেশ’ নামে খ্যাত জয়চণ্ডী পাহাড়কে আগামী দিন জাতীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জাতীয় পর্যটন কেন্দ্র করতে গেলে কাঠামোগত বিভিন্ন ধরনের উন্নয়ন করতে হবে এলাকার। তাই শুক্রবার পর্যটন কেন্দ্রের বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখতে রঘুনাথপুর মহকুমা প্রশাসনের আধিকারিকরা জয়চণ্ডী পাহাড় পরিদর্শন করেন। এদিন রঘুনাথপুরের মহকুমা শাসক মিঠুন বিশ্বাস, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক রোহেদ শেখ সহ মহকুমা ও রঘুনাথপুর পুরসভার বিভিন্ন আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। মহকুমা শাসক বলেন, আপাতত পর্যটন কেন্দ্রটিকে উন্নততর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পর্যটন কেন্দ্র এলাকাটিকে ঢেলে সাজানোর চিন্তাভাবনা করা হয়েছে।
প্রশাসনের একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, বিগত বাম সরকারের আমলে জয়চণ্ডী পাহাড়কে কেন্দ্র করে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা হয়। এলাকার মানুষের সহযোগিতা এবং তৎকালীন বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ প্রয়াত বাসুদেব আচারিয়ার উদ্যোগে এই পাহাড়কে কেন্দ্র করে পর্যটন উৎসব শুরু হয়েছিল। সেই সময় পর্যটন কেন্দ্রটিকে ঢেলে সাজানোর পাশাপাশি সরকারিভাবে মেলার আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এরপর সরকারের পরিবর্তন হয়। রাজপাটে আসে তৃণমূল। তৃণমূলের তরফ থেকেও এই পর্যটন কেন্দ্রকে সাজানোর কথা চিন্তা ভাবনা করা হয়। জয়চণ্ডী পাহাড় ঘিরে যুব আবাস, একটি গেস্ট হাউস ও পথের সাথী গড়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি এখানে ঘুরতে আসা পর্যটকদের জন্য পে এন্ড ইউজ টয়লেটের ব্যবস্থা হয়। এছাড়া পাহাড়ের উপরে রয়েছে মন্দির। সেই মন্দিরে যেতে হলে প্রায় ৫০০ সিঁড়ি বেয়ে পাহাড়ে উঠতে হয়। গতবছর বাঁকুড়া লোকসভার সাংসদ অরুপ চক্রবর্তীর সাংসদ তহবিল থেকে সিঁড়ির পাশে স্টিলের হাতল (রেলিং) নির্মাণ হয়। নিরাপত্তা ও ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য যা অত্যন্ত কার্যকর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পর্যটন কেন্দ্র জয়চণ্ডী পাহাড়ে যাওয়ার স্থায়ী কোনো রাস্তা নেই। বর্তমানে অস্থায়ী (ব্যক্তিগত সম্পতি) রাস্তা দিয়ে পর্যটকরা যাতায়াত করেন। একটি রাস্তা রয়েছে তবে সেটি একটি পাড়ার অর্থাৎ জনঘনবসতিপূর্ণ এলাকার উপর দিয়ে যাওয়ায় যাতায়াতে অসুবিধা হয়। যার ফলে পর্যটনের মরশুমে প্রচুর অসুবিধায় পড়তে হয়। এছাড়া এই পর্যটন কেন্দ্র এলাকায় কোনো স্থায়ী দোকান নেই। এলাকার চারিপাশ জঙ্গলে ভর্তি। যে মাঠ রয়েছে সেটাও খেলার উপযুক্ত নয়।
মহকুমা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী দিন জয়চণ্ডী পর্যটন কেন্দ্রকে জাতীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ঘোষিত হবে। এলাকার যে মাঠ রয়েছে সেটিকে খেলার উপযুক্ত হিসেবে সুন্দরভাবে সাজানো হবে। দোকানদারদের জন্য নির্দিষ্ট স্টল হবে। বন্ধ থাকা টয়লেটগুলি খোলা হবে। স্থায়ী রাস্তা নির্মাণ করা হবে। মিলবে পানীয় জল। এছাড়া সুরক্ষার কথা সামনে রেখে গোটা এলাকায় লাইট ও সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা হবে।
বিজেপির রঘুনাথপুরের যুব নেতা বিমান গোস্বামী বলেন, প্রশাসনের আধিকারিকরা এই পর্যটন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। আমাদের তরফ থেকে বিভিন্ন সমস্যার কথা তাঁদের তুলে ধরা হয়েছে।