‘আতঙ্ক’ ছবি দিয়ে তাঁর অভিনয় জীবনের শুরু। বেশ কিছু বছর বিরতির পর ‘বাৎসরিক’ ছবিতে তাঁর কামব্যাক হতে চলেছে। অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনীতির ময়দানেও তিনি সুনাম বজায় রেখেছেন। অভিনেতা, সাংসদ, পরিচালক, লেখক— একাধিক পরিচিতি তাঁর। একান্ত আড্ডায় অকপট বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়।
কামব্যাক ছবি হিসেবে ‘বাৎসরিক’কে বেছে নিলেন কেন?
প্রথমত পরিচালক, মৈনাক ভৌমিক। দর্শক ওর কাজ পছন্দ করেন। দ্বিতীয়ত ছবির বিষয়টা আমার খুব ভালো লেগেছে। সর্বোপরি বীরভূম, দিল্লি, পার্লামেন্ট— সবকিছু সামলে শ্যুটিংয়ের সময় বের করতে পেরেছি।
ভূতে বিশ্বাস করেন?
ভয় পাই। বিশ্বাস করি কি না জানি না।
কোনও ভৌতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে?
একবার আমরা বেড়াতে গিয়েছিলাম গ্রামে। ঘরে আমি একাই ছিলাম। সেই সময় রাতে আমার বিছানার পাশে একজনের অস্তিত্ব অনুভব করেছিলাম। কিন্তু, ভয়ে আমি পাশ ফিরে দেখতেও পারিনি। প্রচণ্ড ভয় পেয়েছিলাম।
কিছু হারিয়ে ফেলার ভয় হয়?
সম্পর্ক হারানোর ভয় হয়। ভালোবাসার মানুষদের হারানোর ভয়। মা চলে যাওয়ার পর আমি বুঝেছি, এই জীবনের কোনও অর্থ নেই। সর্বোপরি আমি যে বয়সে এখন রয়েছি, এটা হারিয়ে ফেলার বয়স। আমার কাছের মানুষ, আত্মীয়-স্বজন ছাড়াও ইন্ডাস্ট্রির অনেককে হারিয়েছি। প্রাপ্তির ঝুলিতে রয়েছে নতুন প্রজন্ম। আমার ছেলে-মেয়ে, তাদের বন্ধুরা।
একাকিত্ব ভাবিয়েছে কখনও?
যত দিন যাচ্ছে তত এই ভয়টা বাড়ছে। যত এই সমাজকে দেখছি, বৃদ্ধাশ্রম দেখছি, যত ছেলে মেয়েদের বিদেশে চলে যাওয়া দেখছি, ভয় বাড়ছে। একাকিত্ব নিঃসন্দেহে একটা ভয়। আমি আমার শাশুড়ি এবং শ্বশুরমশাইকে দেখেছি দু’জনেই অসুস্থ। কিন্তু মৃত্যুর সময় একে অপরের কাছে থাকতে পারেননি। এগুলো দেখে ভয় লাগে।
ছবিতে ‘প্ল্যানচেট’ রয়েছে। আপনি সুযোগ পেলে কাকে ফিরে দেখতে চাইবেন?
মা। মায়ের সঙ্গে কত কথা শেয়ার করা হয় না। (চোখের জল সামলে) মায়ের কথা এলেই ইমোশনাল হয়ে যাই। যখন মা ছিলেন তখন কাজের ব্যস্ততায় সবসময় কথা বলতে পারতাম না। আর এখন মনে হয় কত কথা জমে আছে।
কেরিয়ারের মধ্যগগনে থেকে ধীরে ধীরে কাজ কমিয়ে দেওয়া কি খুব সতর্ক সিদ্ধান্ত ছিল?
আমার কোনও সিদ্ধান্তই পরিকল্পনা করে হয় না। জীবন সম্পর্কে আমার কোনও প্ল্যান নেই। আমি মনের কথা শুনে কাজ করি, মাথার নয়। আমার মনে হয়েছিল সেই সময়ে অনেক বেশি কাজ করা হয়ে গিয়েছিল। আমার মন সায় দিচ্ছিল না। শারীরিক এবং মানসিক ভাবে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম। তখন আমার মনে হয়েছিল যে, বিরতি দরকার। তারমধ্যে রাজনীতি এমন একটা জায়গা, সেখানে পুরো সময় দিতে হয়। সময় দিতে পারলে সুনাম বাড়ে, না হলেই দুর্নাম। আসলে যে কাজটা ভালোবেসে করা যায়, তার জন্য সময় বার করা যায়। আমার কাছে নষ্ট করার সময় নেই।
পরিচালক শতাব্দীরও কি কামব্যাক হতে পারে?
সম্ভাবনা কম। তবে যদি করিও, তাহলে শর্ট ফিল্মের কাজ করতে পারি। কারণ এখন মানুষের সময়-ধৈর্য খুব কমে গিয়েছে। বড় ছবির কোনও পরিকল্পনা এই মুহূর্তে নেই।
পূর্বাশা দাস
ছবি: দীপেশ মুখোপাধ্যায়