Bartaman Logo
২৯ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

৫৮ দিন হেঁটে সাগরে ‘রাজস্থানের বাবা’

ধপধপে সাদা চুল, সঙ্গে এক গাল দাড়ি। পরনে সাদা ধুতি ও সোয়েটার। গলায় রুদ্রাক্ষের মালা। উচ্চতা প্রায় ছয় ফুটের কাছাকাছি। সাগরের দিকে মুখ করে ছোট একটি ঘটি নিয়ে সূর্য প্রণাম করতে করতে মন্ত্র জপছেন তিনি। নাম পান্নে সিং।

৫৮ দিন হেঁটে সাগরে ‘রাজস্থানের বাবা’
  • ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০

সৌম্যজিৎ সাহা, গঙ্গাসাগর: ধপধপে সাদা চুল, সঙ্গে এক গাল দাড়ি। পরনে সাদা ধুতি ও সোয়েটার। গলায় রুদ্রাক্ষের মালা। উচ্চতা প্রায় ছয় ফুটের কাছাকাছি। সাগরের দিকে মুখ করে ছোট একটি ঘটি নিয়ে সূর্য প্রণাম করতে করতে মন্ত্র জপছেন তিনি। নাম পান্নে সিং। তবে তিনি ‘রাজস্থানি বাবা’ নামেই পরিচিত। কারণ তাঁর আস্তানা রাজস্থানের বিকানিরে। এই সাধুর অনেকদিনের ইচ্ছা গঙ্গাসাগরে আসবেন। ডুব দেবেন সাগরে। এতদিনে সেই ইচ্ছা পূরণ হল তাঁর। তবে আর পাঁচজনের সঙ্গে তাঁর আসার মধ্যে ফারাক আছে। রাজস্থানের বিকানির থেকে হেঁটে এসেছেন মেলায়। সময় লেগেছে ৫৮ দিন। সংক্রান্তির সকালে স্নান সেরে করলেন পুজোপাঠ। মৃদু গলায় বললেন, ‘পুণ্যলাভের আশায় হেঁটেই বাবা কপিলমুনির আশ্রমে এসেছি।’

Advertisement

কিছু করার তীব্র ইচ্ছা থাকলে, কোনও কিছুই বাধা হতে পারে না। রাজস্থানের এই ৭৫ বছর বয়সি সাধু সেই অসাধ্য সাধন করেছেন। তিনি গত বছরের ১৮ নভেম্বর বিকানির থেকে হাঁটতে শুরু করেছিলেন। পথে মঠ এবং মন্দিরে বিশ্রাম নিয়ে কলকাতা হয়ে সাগরে পৌঁছান। গঙ্গা ও সমুদ্রের সঙ্গমস্থলে রাত কাটানোকে তিনি সৌভাগ্যের বিষয় বলে মনে করেন। গোটা যাত্রাপথে তাঁর খাদ্যতালিকায় ছিল কেবলই আলু। কখনও রান্না করার সুযোগ থাকলে পাক দিতেন আলুতে। না হলে কাঁচাই চিবিয়ে খেয়ে নিতেন।
কলকাতার প্রতি তাঁর আলাদা আকর্ষণ রয়েছে। তিনি বলেন, ৭০ বছর আগে জীবিকার টানে তাঁর পূর্বপুরুষরা এই শহরে এসেছিলেন। তাই এই শহরের প্রতি তাঁর টান অপরিসীম। এই শহর তাঁর প্রয়াত পূর্বপুরুষদের স্মৃতিকে উসকে দিয়েছে। গঙ্গাসাগর থেকে ফিরে পুরীর জগন্নাথ মন্দির দর্শনের ইচ্ছা রয়েছে ‘রাজস্থানি বাবা’র। নিজের সম্পর্কে ভবিষ্যৎবাণী করতেও ছাড়েননি তিনি। বলেন, আর মাত্র ছ’বছর বাঁচব। জীবনের শেষ কয়েকটি দিন গঙ্গাসাগরেই কাটাতে চান তিনি।লট নম্বর ৮-এ ফিরে নিজেদের গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন ৬৪ বছর বয়সি সোনালি যাদব। তিনি পাটনা থেকে সাগরমেলায় এসেছেন। গত বছর প্রয়াগরাজে কুম্ভমেলায় গিয়েছিলেন শাহি স্নান সারতে। 
চোখের সামনে পদপিষ্টের ঘটনা দেখেছেন। দেখেছেন মৃতের সারি। সেদিন স্নান না করেই কোনওক্রমে প্রাণ নিয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন সোনালিদেবী। সেই আতঙ্ক এখনও তাড়া করে তাঁকে। গঙ্গাসাগরে এসে মকর সংক্রান্তিতে ডুব দিয়েছেন জলে। কপিলমুনির মন্দিরে পুজোও দিয়েছেন সুষ্ঠুভাবে। নির্বিঘ্নে সব কিছু মিটে যাওয়ায় স্বস্তি নিয়ে বাড়ির পথে পা বাড়ালেন বৃদ্ধা।  নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ