বাবা সেনাকর্মী, সঙ্গ দোষে শার্পশ্যুটার
  • ১৫ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বিশ্বজিৎ মাইতি, বরানগর:  নামী কনভেন্ট স্কুলে পঠনপাঠন। ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে বিটেক পাশ। ঝরঝরে ইংরেজি বলতে অভ্যস্ত। এহেন জগদীশ ওরফে রাজা দত্তের অন্ধকার জগতে কুখ্যাত হয়ে ওঠা অনেকের কাছে বিস্ময়। দুঁদে পুলিশ আধিকারিকরা বলছেন, জিম করা সুঠাম দেহের রাজা দু’হাতে বন্দুক চলত সমানভাবে। নিশানাও ছিল অভ্রান্ত। অথচ, সেই রাজাকে কার্যত নিজের পাড়ায় শ্যুটআউটে খুন হতে হয়েছে। অনেকেই ২০২২ সালে তাঁর ফেসবুক পোস্ট উল্লেখ করে বলছেন, বন্ধুত্ব তার কাল হয়েছে। পিছন থেকে ছুরি মেরেছে ঘনিষ্ঠরা।

Advertisement

রাজা দত্তের বাবা বিজয়কুমার দত্ত সেনাবাহিনীর কর্মী ছিলেন। ছোটোবেলা থেকে বাবা ও মায়ের সঙ্গে অরুণাচল সহ মণিপুরে ঘুরতে হয়েছে। পড়াশোনা ইংরেজি মাধ্যম কনভেন্ট স্কুলে। এরপর ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে বাবা ও মায়ের সঙ্গে চলে আসেন বিরাটি। তাঁর একমাত্র বোনের বিয়ে হয়েছে আগেই। আটের দশকের শেষে বিরাটির পৈত্রিক বাড়িতে এসে সে অসৎ সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। ১৯৯২ সাল নাগাদ উত্তর দমদম পুরসভার সামনে কালীপুজোর রাতে মনু খুনে তার নাম জড়িয়ে যায়। প্রায় ১০ বছর সাজা হয়। জেলে থাকা অবস্থায় সে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। ছাড়া পেয়ে তৎকালীন সিপিএম নেতার ছত্রছায়ায় এলাকার ত্রাস হয়ে ওঠে। ২০১২ সালে বিরাটিতে পিনাকি খুনের কাণ্ডে সে ফের গ্রেপ্তার হয়েছিল। এলাকায় তোলাবাজি, জমি কেনাবেচার সিন্ডিকেট, প্রোমোটারি সহ নানা ব্যবসায় দু’হাতে টাকা আয় করেছিল। আর তা নিয়ে তৃণমূল জমানায় নতুন দাদা সুমন রায় সহ অনেকের সঙ্গে বিরোধ চরমে উঠেছিল। শেষপর্যন্ত তাকে খুন হতে হল। বিরাটির শক্তিগড় আদর্শপল্লির বাড়িতে বৃদ্ধা বাবা-মা দীর্ঘদিন ধরে বিছানায় শয্যাসায়ী। সম্ভ্রান্ত পরিবারের রাজার এই পরিণতি মানতে পারছে না তাঁর বাবার পরিচিতরা।