নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উইকএন্ড পার্টি। সন্ধ্যা থেকেই চলছিল মদ্যপান। সেই পার্টি চলে অনেক রাত পর্যন্ত। ভোরের দিকে মদের খরচ ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটল বেহালা সখেরবাজারে। মাত্র ১১০ টাকা কম দেওয়ায় প্রকাশ্য রাস্তায় বন্ধুকে খুনের অভিযোগ উঠল। ঠাকুরপুকুর থানা এলাকায় ডায়মন্ডহারবার রোডের উপর অস্ত্রের কোপে বন্ধুকে খুন করে তাঁরই এক গ্লাসের সঙ্গী। সঙ্গ দেয় তার বাবা। দু’জনকেই গ্রেপ্তার করেছে ঠাকুরপুকুর থানার পুলিস।
সখেরবাজার এলাকাতেই বাড়ি বাপি অধিকারীর (২৪)। তাঁরই পাড়ার বন্ধু কৃষ্ণ জানা। দুই বন্ধু মিলে ঠিক করেন মদ্যপান করবেন। মদ খেতে গিয়ে খরচ হয় ৪৪০ টাকা। ওই টাকা সমানভাগে ভাগ হওয়ার কথা। অর্থাৎ মাথাপিছু ২২০ টাকা। কিন্তু, মদ্যপানের পর টাকা ভাগাভাগির সময় বাপি ১১০ টাকা দেন কৃষ্ণকে। বাকি টাকা তিনি পড়ে দেবেন বলে জানান। একথা শুনেই ক্ষেপে যায় কৃষ্ণ। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে দুই বন্ধুর ঝগড়া যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছয়, তখন আচমকা বাপির উপর চড়াও হয় কৃষ্ণ। তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। সেই সময় বাপি ভয়ে সখেরবাজার সুপার মার্কেটের ভিতর ঢুকে যান। তাঁকে তাড়া করে কৃষ্ণ। শুধু তাই নয়, ফোন করে বাবাকেও ডেকে নেয় সে। তড়িঘড়ি চলে আসে কৃষ্ণর বাবা দীপু জানা। দু’জনে মিলে মার্কেটের ভিতর থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে বাপিকে। এরপর আরেকপ্রস্থ মারধর করা হয়। প্রায় মূর্ছা যাওয়ার অবস্থা হয় বাপির। সেই সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে বন্ধুকে কোপায় কৃষ্ণ। রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তাতেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ীরাই ঠাকুরপুকুর থানায় খবর দেন।
পুলিস রক্তাক্ত অবস্থায় বাপিকে উদ্ধার করে বিদ্যাসাগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে ওই যুবককে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। খুনের মামলা রুজু করেছে ঠাকুরপুকুর থানার পুলিস। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক রিপোর্টে ইঙ্গিত, শরীরের একাধিক জায়গায় ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। এলোপাথারি মারধরের কারণেই মৃত্যু হয়েছে বাপির। গ্রেপ্তার করা হয়েছে কৃষ্ণ ও দীপু জানাকে। ঘটনাস্থল ঘিরে দিয়েছে পুলিস। অকুস্থল থেকে প্রমাণ হিসেবে মৃতের জামার ছেঁড়া অংশ, রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেছে পুলিস।