


নয়াদিল্লি ও শ্রীনগর: ‘২০ বছর ধরে অপেক্ষা করেছিলাম। অবশেষে সুযোগও পেলাম। কিন্তু ফারুক আবদুল্লাকে মারতে পারলাম না।’ জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে হত্যার চেষ্টায় অভিযুক্ত ৬৩ বছরের কমল সিং জামওয়াল জেরায় পুলিশকে এমনটাই জানিয়েছেন। তবে এর উদ্দেশ্য কী ছিল, তা খোলসা করেননি অভিযুক্ত। শুধু জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত কিছু কারণ রয়েছে। বৃহস্পতিবার অভিযুক্তর পাঁচ দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বুধবার ন্যাশনাল কনফারেন্স দলের এক নেতার ছেলের বিয়েতে যোগ দিতে জম্মুর গ্রেটার কৈলাশে রয়্যাল পার্কে বিবাহবাসরে গিয়েছিলেন আবদুল্লা। সেখান থেকে বেরনোর সময়েই পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে আবদুল্লার উপর গুলি চালান জামওয়াল। তবে বরাত জোরে সেই গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়? মুহূর্তের মধ্যেই তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা জামওয়ালকে ধরে ফেলেন। তারপর তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। আবদুল্লার উপর হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় সরব হন বিরোধী নেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গে। তাঁর দাবি, জম্মু ও কাশ্মীরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীরও কোনওরকম নিরাপত্তা নেই। পাশাপাশি তিনি এও বলেন, কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা তুলে দেওয়ার পরই সেখানে সন্ত্রাস আরও বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। আবদুল্লার উপর হামলার ঘটনায় নিরাপত্তার চূড়ান্ত গাফিলতিই সামনে আসছে। এদিন শ্রীনগরের বাথিন্ডিতে ফারুকের বাসবভনে গিয়ে দেখা করেন তাঁর ছেলে জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। বিভিন্ন দলের নেতারাও ফারুকের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁরা সবাই ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এদিন ফারুক বলেছেন, ‘ঈশ্বরের কৃপায় আমি বেঁচে গিয়েছি। হামলাকারী ঠিক আমার পিছনেই ছিল। বিয়েবাড়ি থেকে বেরনোর সময়েই হঠাৎ জোরে আওয়াজ পাই। কিন্তু তখনও বুঝতে পারিনি কী ঘটেছে। নিরাপত্তারক্ষীরা হামলাকারীর পিস্তল কেড়ে নেয়। ওই ব্যক্তিকে চিনি না।’ পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত পুরানি মান্ডি এলাকার বাসিন্দা। যাঁর বিয়ে ছিল, তিনি তাঁর আত্মীয়। সেই সূত্রেই জামওয়াল বিয়েবাড়ি এসেছিলেন।