সংবাদদাতা, কান্দি: এবছর বর্ষায় কান্দি মহকুমা এলাকার অনেক চাষি বেগুনি বা কালোধান চাষের দিকে ঝুঁকছেন। এই প্রকার ধানের চালে ফাইবার বেশি থাকার দাবি করা হচ্ছে। ফলে ডায়াবেটিস রোগীরা এতে উপকৃত হতে পারেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় আপ্লুত হয়েই চাষিরা কালো বা বেগুনি ধান চাষের আগ্রহ দেখিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, এবছর বোরো চাষের সময় খড়গ্রাম ব্লকের মহম্মদপুরের দুই যুবক বনি আমিন মোমিন ও আব্দুর রহমান প্রথম ওই ধানের চাষ করেন। এই চাষের খরচ ও উৎপাদন অন্যান্য ধানের মতোই। ওই দুই যুবক সোশ্যাল মিডিয়া থেকে তথ্য নিয়ে চাষ করেন বলে জানিয়েছেন।
এবার ওই যুবকদের মতো মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় অনেক চাষি বেগুনি বা কালো ধানের চাষ শুরু করেছেন। খড়গ্রামের পারুলিয়া, পদমকান্দি, মাড়গ্রাম ছাড়াও ভরতপুর ১ ব্লক ও বড়ঞা ব্লকের অনেক চাষি ওই ধানের চাষ করছেন বলে জানা গিয়েছে। বনি মোমিন বলেন, এবছর আমরা ৪৭জন চাষিকে এই ধানের বীজ বিক্রি করেছি। আরও অনেকে বীজ নেওয়ার জন্য এসেছিলেন। কিন্তু বীজ শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেকে ফিরে গিয়েছেন।
ভরতপুর ১ ব্লকের আসাননগরপাড়ার নজরুল ইসলাম বলেন, আমি নিজেও সুগারের রোগী। সোশ্যাল মিডিয়ায় জানতে পারি যে, বেগুনি বা কালো ধানের চাল সুগারের রোগীদের জন্য ভালো। এতে নাকি ফাইবার বেশি থাকে। তাই এবছর বর্ষায় নিজের দেড় বিঘে জমিতেই চাষ করতে চলেছি। ইতিমধ্যে ওই ধানের বীজতলা তৈরি করে ফেলেছি।
বড়ঞা ব্লকের হাপিনা গ্রামের চাষি রাধেশ্যাম মণ্ডল বলেন, ছেলেরা সোশ্যাল মিডিয়া দেখে উত্তর ২৪ পরগনা থেকে বেগুনি ধানের বীজ আমদানি করেছে। এরপর চাষও শুরু করে দিয়েছে। এবার কী হতে চলেছে, সেটাই দেখার জন্য বসে রয়েছি। এতে যদি সুগারের রোগীদের উপকার হয়, তাহলে অন্যদেরও এই ধান লাগানোর জন্য উৎসাহিত করব।
প্রসঙ্গত, জেলার মধ্যে কান্দি মহকুমা এলাকায় সবচেয়ে বেশি আমন চাষ হয়ে থাকে। কান্দি ব্লকের হিজল পঞ্চায়েত এলাকায় কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়। স্থানীয় হিজল কৃষি সমবায় সমিতির সভাপতি আশারুল শেখ বলেন, এলাকার অধিকাংশ চাষি গুটকা বা মিনিকেট জাতীয় ধানের চাষ শুরু করেছেন। তবে কিছু সংখ্যায় চাষি বেগুনি বা কালো ধানের চাষ করছেন বলে জানতে পেরেছি।