সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: পুরুলিয়া জেলাজুড়ে সারের কালোবাজারি চলছে। এই অভিযোগ শুধু চাষিদের নয়, বিজেপির কিষান মোর্চার জেলা সভাপতিও এনিয়ে সরব হয়েছেন। প্রশাসন সচেষ্ট হলেও কালোবাজারিরা যে এখনো সক্রিয় রয়েছে, তা মেনে নিয়েই সংগঠনের পদাধিকারীদের নজরদারির নির্দেশ দিয়েছেন কিষান মোর্চার পুরুলিয়া জেলা সভাপতি জগদীশ কুমার। বেআইনি মজুতের খবর পেলে প্রয়োজনে এফআইআরও করা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
গত কয়েকদিন ধরে পুরুলিয়া জেলায় একের পর এক ব্লক এলাকায় সারের সমস্যা নিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন চাষিরা। কোথাও ভোরবেলা থেকে লাইন দেওয়ার পরেও সার না পেয়ে রাস্তা অবরোধ, কোথাও দোকানের সামনে বিক্ষোভ, আবার অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন চাষিরা। ইতিমধ্যে পুরুলিয়া জেলার আড়ষা, বরাবাজার, কোটশিলা এবং জয়পুরে বড়ো আকারের বিক্ষোভ হয়েছে। অনান্য জায়গাতেও ক্ষোভ রয়েছে চাষিদের মধ্যে। চাষিদের ক্ষোভও যাতে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার না পাওয়া মহিলাদের বিক্ষোভের মতো ব্যাপক মাত্রা না পায়, সেই বিষয়ে সতর্ক বিজেপি নেতারা।
বিজেপির কিষান মোর্চার পুরুলিয়া জেলা সভাপতি বলেন, জেলার কম বেশি প্রায় প্রতিটি জায়গা থেকেই সারের কালোবাজারির অভিযোগ এসেছে। কৃষি সহায়তা কেন্দ্র এবং কৃষি সমবায়গুলি থেকেও কিছু জায়গায় বেশি দামে সার বিক্রি করা হচ্ছে। কেউ কেউ আবার অন্যায়ভাবে সার মজুত করে কৃত্রিমভাবে হাহাকার তৈরি করে দাম বাড়াতে চাইছে। কৃষিদপ্তরের জেলা আধিকারিকদের সঙ্গে এবিষয়ে কথা হয়েছে। তাঁরাও সচেষ্ট রয়েছেন। তবে কালোবাজারি এখনো বন্ধ করা যায়নি।
তিনি আরও বলেন, সংগঠনের মণ্ডল সভাপতি থেকে শুরু করে অনান্য পদাধিকারী এবং সাধারণ কার্যকর্তাদেরও বলা হয়েছে কালোবাজারির প্রমাণ হাতে পেলেই সঙ্গে সঙ্গে জানাতে। স্থানীয় কৃষিদপ্তরকে জানিয়ে কাজ না হলে বেআইনি কারবারিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে থানায় এফআইআর করা হবে। চাষিদের ন্যায্য মূল্যে সার দিতে সরকার বদ্ধ পরিকর। কোনোরকম বেআইনি কারবার চালাতে দেবে না সরকার। প্রাথমিকভাবে অনেককে সাবধান করা হয়েছে। তাতে কাজ না হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি প্রশাসনকে জানাব। কৃষিদপ্তরের আধিকারিকরা যাতে লাগাতার পরিদর্শন করেন, সেই বিষয়ে জেলা আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। কালোবাজারি বন্ধ করতেই হবে এই বার্তা আধিকারিকদের দেওয়া হয়েছে।