Bartaman Logo
২০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মুর্শিদাবাদে পাটে জাঁক দিতে ভরসা পুকুর, জলাশয় ভাড়া নিচ্ছেন চাষিরা

মুর্শিদাবাদে পাট চাষের জন্য পুকুর ভাড়া নিচ্ছেন চাষিরা। জলের অভাবে উদ্বেগ বাড়ছে, তবে বাজারে পাটের দাম ভালো। বিস্তারিত পড়ুন।

মুর্শিদাবাদে পাটে জাঁক দিতে ভরসা পুকুর, জলাশয় ভাড়া নিচ্ছেন চাষিরা
  • ১৮ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বহরমপুর: পাটে জাঁক দেওয়ার জন্য এখন পুকুর ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। বিঘা প্রতি জমির পাটের জন্য জলাশয় মালিককে চাষিদের ১২০০ টাকা হিসাবে জলের ভাড়া দিতে হচ্ছে। মাত্র দু›সপ্তাহের জন্য জাঁক দেওয়ার জন্য ভাড়া গুনতে হচ্ছে। নতুন পাটের বাজার দর ভালো থাকায় পুকুর ভাড়া নিতে কার্যত চাষিদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছে। চাষিদের দাবি, এখনও সেভাবে বৃষ্টি না হওয়ায় পাটে জাঁক দিতে জলের সমস্যা রয়েছে। বাধ্য হয়ে জলাশয় ভাড়া নিতে হচ্ছে। পুকুর মালিকদের দাবি, একদিকে যেমন লাভ হচ্ছে পাশাপাশি পাটে জাঁক দেওয়ায় বড় হওয়ার আগেই পুকুরের মাছও তুলে নিতে হচ্ছে। তাতে কিছু ক্ষতিও হচ্ছে।

Advertisement

মুর্শিদাবাদ জেলার বাগরি এলাকায় পাট অন্যতম অর্থকরী ফসল। জেলায় প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার হেক্টর জমিরে প্ট চাষ হতো। এবার পাট চাষের জমির পরিমাণ অনেকটাই বেড়েছে বলে কৃষি দপ্তর সূত্রে খবর। জেলার বহরমপুর, বেলডাঙা, নওদা, হরিহরপাড়া, ইসলামপুর, ডোমকল ব্লকে প্রচুর পাট চাষ হয়। হরিহরপাড়া এবং হরিহরপাড়া ব্লক লাগোয়া বহরমপুর ব্লকের বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে শুধুই পাট চাষের জমি। আগাম চাষ করায় গজধরপাড়া, রাজধরপাড়া, কাঁটাবাগান, হরিহরপাড়ায় চাষিরা পাট কাটতে শুরু করে দিয়েছেন। কিন্তু জাঁক দিতে জলের সমস্যায় চাষিদের উদ্বেগ বাড়ছে। কারন নদী, নালাগুলিতে এখনও সেভাবে জল না থাকায় চাষিরা সমস্যায় পড়ছেন। চাষিদের মুসকিল আসান করতে পুকুর মালিকরা এগিয়ে এসেছেন। পাটে জাঁক দিতে পুকুরের জল ভাড়ায় দেওয়া হচ্ছে। এক বিঘা জমির পাট জাঁক দিতে ১২০০ টাকা লাগছে। চাষিদের বক্তব্য, এক বিঘা পরিমাণ জলাশয় হলে আট থেকে ন›বিঘা জমির পাটে জাঁক দেওয়া যাবে। তবে মাত্র দু›সপ্তাহের জন্য। দু›সপ্তাহ পড়ে পাট তুলে নেওয়ার পর ওই জলাশয় ফের অন্য জনকে ভাড়ায় দেওয়া হবে। এক বিঘা পুকুর ভাড়ায় দিয়ে মাসে কুড়ি হাজার টাকার বেশি আয় হচ্ছে। মাছ চাষের পুকুর হলে পাট জাঁক দেওয়ার আগে মাছ তুলে নিতে হচ্ছে। কারণ পাটে জাঁক দেওয়ার পর সেই জল মাছের জীবন ধারণের পক্ষ্যে সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে যায়। 
সুন্দিপুরের বাসিন্দা এশান শেখ বলে, গতকালই সমস্ত মাছ তুলে নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছি। জল এখন পাট চাষের জন্য ভাড়ায় দিয়েছি। পাট চাষ শেষ হলে ফের পুকুর সেঁচে জীবানুমুক্ত করে নতুন জল ভরে মাছের চারা ফেলব। ইদ্রিশ আলি বলেন, জল ভাড়ায় দিয়ে মাছে চাষের থেকে বেশি আয়। তবে জাঁক দেওয়া শেষ হলে পুকুড়ে চুন, নিম খোল দিতে এবং পরিষ্কার করতে কিছু খরচ হবে। এখন পাটের বাজার খুব ভালো। বুধবার নতুন পাট ১৪ হাজার টাকা কুইন্টাল দরে বিক্রি হয়েছে। হরিহরপাড়া ব্লকের বাসিন্দা রমজান মণ্ডল বলেন, পাটের দাম ভালো তাই তাড়াহুড়ো করছি। জাঁক দেওয়ার জন্য জলাশয়ের ভাড়া মিটিয়েও ভালো লাভ হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ