নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সামনেই রবি মরশুম। তার আগে ফের দাম বেড়েছে সারের। রাজ্যে সর্বাধিক ব্যবহৃত এনপিকে ১০:২৬:২৬ সারের দাম বিগত এক বছরে বেড়েছে প্রায় ৪৩০ টাকা। ৫০ কেজির সারের একটি বস্তার দাম ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছিল ১৪৭০ টাকা। এবছর সেপ্টেম্বর মাসে কৃষকদের সেই সার কিনতে হচ্ছে ১,৮০০ থেকে ১,৯০০ টাকায়। সারের এই নজিরবিহীন মূল্যবৃদ্ধির জন্য কেন্দ্রীয় নীতিকেই দায়ী করছে ওয়াকিবহাল মহল। এর ফলে বাংলার কৃষকরা যে সংকটের মধ্যে পড়ছেন, রবি মরশুমের আগে দিল্লিতে আয়োজিত কৃষি সংক্রান্ত জাতীয় কনফারেন্সে সেই কথাই তুলে ধরবে রাজ্য। আগামী ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর ভারতরত্ন সি সুব্রহ্মনিয়ম অডিটোরিয়ামে এই জাতীয় কনফারেন্স বসছে। সেখানে রাজ্যের প্রতিনিধি হিসেবে কৃষি ডিরেক্টরকে পাঠানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, সেখানেই সারের বেলাগাম মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কৃষকদের বিপাকে পড়ার বিষয়টি তুলে ধরবেন তিনি।
এ বিষয়ে রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘ওরা (কেন্দ্র) যে কৃষক বিরোধী, তার একাধিক প্রমাণ রয়েছে। সারের দাম নিয়ন্ত্রণ না করে তাঁদের তিলতিল করে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে একাধিকবার প্রতিবাদ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই রেশ ধরেই আমরা ফের প্রতিবাদে সোচ্চার হব।’
রবি মরশুমে ধান, গমের পাশপাশি ভুট্টা, সর্ষে, আলু, বাদামের মতো ১৩ ধরনের ফসল ফলান কৃষকরা। এই মরশুমে এনপিকে ১০:২৬:২৬ সারের চাহিদাই সব থেকে বেশি থাকে পশ্চিমবঙ্গে। আর এই সারের দামই সব থেকে বেশি বেড়েছে। এখানেই শেষ নয়! ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গের জন্য এই সারের বরাদ্দ ছিল ৪ লক্ষ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। যা ২০২৪-২৫ সালে কমিয়ে ২ লক্ষ ৬৬ হাজার মেট্রিক টন করা হয়েছে।
গত ৫ বছরে পটাশ (৭৬ শতাংশ) এবং ফসফেটে ভর্তুকির হার ব্যাপকভাবে কমানো হয়েছে। যার ফলে দাম বেড়েছে এনপিকে ১০:২৬:২৬ সারের। বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে, পটাশযুক্ত এমন সারের দামও বেড়েছে। ইউরিয়া এবং ডিএপি ছাড়া নিয়ন্ত্রণমুক্ত করা হয়েছে সমস্ত সারের দাম। তাছাড়া, সারের দাম নির্ভর করে প্রতি মরশুমের আগে কেন্দ্রের সার বিভাগের পুষ্টিভিত্তিক ভর্তুকি (এনবিএস) নির্ধারণের উপর। তাই ২০২৫-২৬ ’র রবি মরশুমে কেন্দ্রের এই এনবিএস নীতির দিকেই তাকিয়ে কৃষকরা।