নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: কলেজে পড়েন। পড়াশোনা, ছবি আঁকা আর কবিতা লেখাই ছিল তাঁর একমাত্র ধ্যানজ্ঞান। এতদিন সব ঠিকঠাকই চলছিল। কিন্তু গত এপ্রিল মাস ওলটপালট করে দিয়েছে সব কিছু। ওই মাসেই জানা গিয়েছে, অশোকনগরের মানিকতলার বাসিন্দা সুদেষ্ণা কর্মকারের শরীরে বাসা বেঁধেছে মারণ রোগ। তিনি ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত। একে মেয়ের জন্য চিন্তা, তার উপর এই রোগের চিকিৎসার ব্যয়ভার এখন সামলাবেন কী করে, তা নিয়ে উদ্বেগের শেষ নেই বাবা সুজিত কর্মকারের। সুজিতবাবু ছোটো ব্যবসা রয়েছে। তাঁর যা কিছু সঞ্চয় ছিল, প্রায় সবই খরচ হয়ে গিয়েছে মেয়ের চিকিৎসায়। এই অবস্থায় মানুষের কাছে হাত পাততে বাধ্য হয়েছেন তিনি।
সুদেষ্ণা বিএসসি তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। পড়াশোনার পাশাপাশি কবিতা লেখা ও ছবি আঁকা ছিল তাঁর নেশা। রং-তুলি হাতে বহু অসামান্য সৃষ্টি তাঁর হাত থেকে বেরিয়েছে। রাজ্যস্তরের প্রতিযোগিতায় পুরস্কারও পেয়েছেন। নিউটাউনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে সুদেষ্ণার। এই অবস্থায় পড়াশোনা বন্ধ হলেও ছবি আঁকা ছাড়েননি সুদেষ্ণা। হাসপাতালের বিছানায় বসেই রং-তুলি হাতে এঁকে চলেছেন নানা ছবি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁকে সুস্থ করে তুলতে হলে এখন অস্থি মজ্জা প্রতিস্থাপন করা প্রয়োজন। এই চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে গিয়ে কার্যত সর্বস্বান্ত পরিবার। আত্মীয়স্বজন এবং পরিচিতদের কাছ থেকেও সাহায্য নেওয়া হয়েছে। তারপরেও প্রয়োজনীয় টাকা মেলেনি। ফলে, মেয়ের চিকিৎসা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরিবার। পরিবারের সদস্যদের কথায়, অস্থি মজ্জা প্রতিস্থাপনের মতো ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ বহন করা তাঁদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। সুজিতবাবু বলেন, মেয়েকে সুস্থ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনাই এখন আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন করছি। স্থানীয় বাসিন্দা রেশমি বন্দ্যোপাধ্যায় ও সঞ্জয় দাসরা এই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁরা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে টাকা সংগ্রহ করছেন। রেশমির বক্তব্য, আমরা চাই দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুক সুদেষ্ণা। এজন্য সকলের কাছেই সাহায্য চাইছি। নিজস্ব চিত্র