শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: বয়স মাত্র পাঁচবছর। জন্মের পর থেকে স্বাভাবিক ছিল শিশু। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি হতে শুরু করে দেগঙ্গার সোহান ইসলাম। যত বয়স হচ্ছে শারীরিক একাধিক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। হাত পা সহ একাধিক শিরা সংকুচিত হচ্ছে। মাথা বেড়ে যাচ্ছে। ভিন রাজ্যে গিয়েও এর চিকিৎসা করাতে পারেননি। পরে কলকাতার এনআরএস-এ চিকিৎসা করাতে গিয়েই ধরা পড়েছে বিরল রোগ 'হান্টার সিনড্রোম'। তবে চিকিৎসা শুরু হলেও তা ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়া নিয়ে চিন্তায় পরিবার।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সোহানের যখন দু'বছর বয়স তখন থেকেই রাজ্যের একাধিক হাসপাতাল ঘুরেছেন। কিন্তু কোনও চিকিৎসক ছোট্ট সোহানের কি রোগ হয়েছে ধরতে পারেনি। এরপর দেশের বিভিন্ন বড় বড় হাসপাতালে ছেলের সুস্থতার জন্য ছুটেছেন বাবা-মা। কিন্তু অবস্থা তথৈবচ। অবশেষে ফের বাংলারই নাম করা হাসপাতাল এনআরএস-এ সোহানকে দেখানো শুরু করেন তারা। আর তখনই বিরল রোগে আক্রান্ত শিশু জানান চিকিৎসকরা। রোগের নাম হান্টার এনআরএসওয়ান। আর এই রোগের চিকিৎসা যথেষ্টই ব্যয়বহুল। সপ্তাহে ৫০ হাজার টাকার একটি করে ইনজেকশন দিতে হয়। কিন্তু দিনদরিদ্র পরিবারের সেই টাকা জোগাড় করা একেবারেই কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
এ নিয়ে শিশুর মা রুনা খাতুন বলেন, যত দিন যাচ্ছে ছেলের শারীরিক পরিবর্তন হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে অবশেষে এনআরসির চিকিৎসা চলছে। কিন্তু তার খরচ যথেষ্ট। ফলে ছেলেকে বাঁচানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে। যদি সরকার পাশে দাঁড়ায় তাহলে ছোট্ট সোহানের হয়তো খেলাধুলা করতে পারবে। অন্যদিকে বাবা সাইফুল ইসলাম বলেন, ছেলেকে নিয়ে চিন্তা যেন কমছে না। চিকিৎসার যা খরচ তাতে করে আমরা খুবই দুশ্চিন্তায় রয়েছি। চিকিৎসার ক্ষেত্রে সরকারিভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে ভালো হয়।