সংবাদদাতা, বালুরঘাট: প্রথমে মায়ের হাতের পলা বাঁধানো চুরি। তা বিক্রি করে সেই টাকায় প্রেমিকার জন্য উপহার কিনল গুণধর পুত্র! বাড়ির আলমারির লকার কেটে সোনার পলা বাঁধানো চুরি করে ছেলে। শুধু তাই নয়, নগদ ৩৫০০ টাকা ও বোনের এক জোড়া রূপোর বাজু চুরি করে ১৭ বছর বয়সি ওই কিশোর। তার কর্মকাণ্ডে হতবাক বাবা-মা। তাই নিরুপায় হয়ে নিজের ছেলের বিরুদ্ধে বালুরঘাট থানার পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়ে অবশেষে ওই কিশোর চুরির কথা স্বীকার করে। ওই সোনার গয়না বিক্রি করে সে কিছু টাকা দিয়ে বন্ধুদের নিয়ে পিকনিক করে। বাকি টাকা প্রেমিকাকে উপহার কেনার জন্য দিয়েছিল। চুরির কথা জানতে পেরে ওই কিশোরের প্রেমিকা অবশ্য পরে একজনের মাধ্যমে টাকা ফিরিয়ে দিয়েছে। এই ঘটনায় রীতিমতো উদ্বিগ্ন ওই কিশোরের পরিবার।
পুলিশ সূত্রে খবর, কিশোরের বাড়ি বালুরঘাট ব্লকের ভাটপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের একটি সীমান্তবর্তী গ্রামে।
১৭ বছর বয়স হলেও সে এবার মাধ্যমিক দেবে। ওই কিশোরের বাবা একজন রেস্টুরেন্টের রাঁধুনী। মা গৃহবধূ। এর আগে ওই কিশোর মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার আগে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। পরে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে এনে পড়াশোনা করানোর চেষ্টা চালায় পরিবার।
রবিবার সকালে ওই কিশোরের বাবা, মা ও বোন বাইরে গিয়েছিলেন। সেই সময় সে আলমারির লকার কেটে এই চুরি করে। পরে বাড়ির লোকেরা বিষয়টি বুঝতে পারেন। রাতে বাবা-মা পুলিশের দ্বারস্থ হন। পিকনিকের আসর থেকে পরিবারের লোকেরাই তাকে পুলিশের কাছে নিয়ে গেলে পুলিশি জেরার মুখে সব কিছু স্বীকার করে সে।
জানা গিয়েছে, ওই কিশোর কামারপাড়া এলাকায় একটি সোনার দোকানে গয়না বিক্রি করে ১৬ হাজার টাকা পেয়েছিল। তারমধ্যে সে সাড়ে আট হাজার টাকা দিয়ে প্রেমিকাকে উপহার কিনে দিয়েছিল। বাকি টাকা নিজের বন্ধুদের কাছে রেখেছিল। এছাড়াও কিছু টাকায় পিকনিকের আয়োজন করেছিল। বালুরঘাট থানার পুলিশ সোনার গয়না উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। পাশাপাশি চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
কিশোরের মা বলেন, ভাবতেও পারিনি ছেলে এই কাজ করবে। প্রেমিকার কাছে টাকা রেখেছিল। আরও বন্ধুদের কাছেও রেখেছিল। আমি চাই আমার সোনা উদ্ধার হোক। ছেলেকে নিয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন।