Bartaman Logo
২০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ইউপিআই ট্রান্সফারের ফাঁদে পা, নগদের বদলে মিলছে নকল টাকা, স্টেশনে ভাব জমিয়ে রেলযাত্রীকে ঠকাবার নয়া কায়দা, চিন্তায় পুলিশ

স্টেশনে যাত্রীর সঙ্গে আলাপের পর বলা হচ্ছে নিকট আত্মীয় অসুস্থ কিংবা অন্যকোনো জরুরি প্রয়োজনে বাড়িতে এখনই টাকা পাঠাতে হবে।

ইউপিআই ট্রান্সফারের ফাঁদে পা, নগদের বদলে মিলছে নকল টাকা, স্টেশনে ভাব জমিয়ে রেলযাত্রীকে ঠকাবার নয়া কায়দা, চিন্তায় পুলিশ
  • ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৪:০১
Prefer us on Google

শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: স্টেশনে যাত্রীর সঙ্গে আলাপের পর বলা হচ্ছে নিকট আত্মীয় অসুস্থ কিংবা অন্যকোনো জরুরি প্রয়োজনে বাড়িতে এখনই টাকা পাঠাতে হবে। কিন্তু তার ফোনে ইউপিআই ব্যবস্থা না-থাকায় সে মস্ত সমস্যায় পড়েছে। সদ্য পরিচিত যাত্রীটি যদি তাঁর ইউপিআই অ্যাকাউন্ট থেকে ওই টাকা পাঠিয়ে দেন তবে তাঁর বড়ো উপকার হয়। আর ওই টাকা সঙ্গে সঙ্গেই সে নগদে মিটিয়ে দেবে। বিশ্বাস অর্জনের জন্য যাত্রীকে দেখানো হচ্ছে ‘টাকার বান্ডিল’। অনলাইনে টাকা ট্রান্সফার করিয়ে নেওয়া পরই ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে সেটি  (বাস্তবে নকল টাকায় ভরা কিংবা সাধারণ কাগজের বান্ডিল)। হাওড়া স্টেশনসহ বিভিন্ন বড়ো রেল স্টেশনে চলছে এই নতুন কায়দায় এই প্রতারণা। এই কাণ্ড উদ্বেগ বাড়াচ্ছে রেল পুলিশের। এই ধরনের জালিয়াতদের সম্পর্কে সতর্ক করছে রেল পুলিশ।

Advertisement

রেল পুলিশ সূত্রের খবর, প্রতিদিনই রেল স্টেশন এবং তার সংলগ্ন এলাকায় টাকা হাতাতে নিত্যনতুন কৌশল বের করছে প্রতারকরা। তাদের পাল্লায় পড়ে স্টেশনে সর্বস্ব খোয়াচ্ছেন ট্রেন ধরতে আসা যাত্রীদের অনেকেই। বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে রেল পুলিশের অফিসাররা দেখতে পাচ্ছেন, কাগজের বান্ডিল বা নকল নোট দিয়ে প্রতারণার চক্র বিভিন্ন রেল স্টেশনে  সক্রিয়। কিন্তু জালিয়াতির ধরন বদলেছে। হাওড়াসহ বিভিন্ন রেল স্টেশনে ভিন রাজ্য থেকে আসেন অসংখ্য যাত্রী, তাঁদের একটা অংশ সেনাবিভাগে কর্মরত। তাঁদের সঙ্গে ভাব জমাচ্ছে প্রতারক চক্র।

কথা প্রসঙ্গে জালিয়াতরা টেনে আনছে নিজের বাড়ির কোনো স্পর্শকাতর প্রসঙ্গ—বাড়িতে কেউ অসুস্থ কিংবা ছেলেমেয়ের পড়াশোনার জন্য টাকা  পাঠাতে হবে। তা শোনার পর অনেকেরই মন গলে যাচ্ছে। সেই সুযোগে নিজের আসল রূপ ধরছে জালিয়াতরা। যাত্রীর ইউপিএআই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে বাড়িতে টাকা পাঠাতে অনুরোধ করছে। বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য দেখাচ্ছে ব্যাগে গচ্ছিত ‘টাকার বান্ডিল’। কোনো যাত্রী প্রতারকদের পাতা এই ফাঁদে পা দিলেই ধাপে ধাপে মোটা অঙ্কের টাকা হাপিশ হয়ে যাচ্ছে। চক্রের লোকজনের ইউপিআই অ্যাকাউন্টে মোটা অর্থ ট্রান্সফার করে বাস্তবে হাতে পাচ্ছে নকল টাকার বান্ডিল। আর সেটা ধরিয়ে দিয়ে মুহূর্তের মধ্যেই উধাও হয়ে যাচ্ছে জালিয়াতরা। ওই যাত্রী বান্ডিল খুলেই দেখছেন, উপরে-নীচে পাঁচশো বা দুশোর নোট। বাকিটা স্রেফ কাগজ কিংবা বাচ্চাদের খেলনা টাকা! তাদের পাল্লায় পড়ে সেনাকর্মী থেকে শুরু করে তরুণ প্রজন্মের অনেকেই ঠকেছেন।

তদন্ত করতে গিয়ে রেল পুলিশের অফিসাররা জানতে পারছেন, সপ্তাহখানেক আগে একটি স্টেশনে অপারেশন সেরে অন্য স্টেশনে গিয়ে ফাঁদ পাতছে এই প্রতারক চক্র। যাত্রী সেজেই তারা ঘুরে বেড়াচ্ছে বিভিন্ন রেল স্টেশনে। অভিযুক্তদের বেশিরভাগই ভিন রাজ্যের বাসিন্দা। সিসি ক্যামেরায় তাদের ছবি ধরা পড়লেও মোবাইল নম্বর বা কোনও নথি না-থাকায় পরিচয় জানতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে রেল পুলিশকে। অধিকাংশ সময়েই জালিয়াতদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। এই কারণে স্টেশনে অপরাধ ঘটাবার সময় তারা হাতেনাতে ধরা না-পড়লে, চক্রের লোকজনকে ধরতে কালঘাম ছুটছে পুলিশের। এই কারণে কেউ নগদের বিনিময়ে অনলাইনে টাকা পাঠানোর অনুরোধ করলে সরাসরি ‘না’ বলে দেওয়ারই পরামর্শ দিচ্ছে পুলিশ। ওইসঙ্গে বিষয়টি পুলিশকে দ্রুত জানাতেও অনুরোধ করা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ