Bartaman Logo
১৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পুর রাজনীতিতে তৃণমূলের শেষ দুর্গের পতন, রিষড়ায় চেয়ারম্যানের পদত্যাগ

পুর রাজনীতিতে তৃণমূলের শেষ দুর্গের পতন, রিষড়ায় চেয়ারম্যানের পদত্যাগ
  • ১৭ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: হুগলির পুর রাজনীতিতে তৃণমূলের ‘শেষ দুর্গ’ও ভেঙে পড়ল। রিষড়া পুরসভার চেয়ারম্যান সহ কাউন্সিলারদের একাংশ পদত্যাগ করলেন। গত কয়েকদিন ধরেই পদত্যাগ ইস্যুতে রিষড়ায় জল্পনা চলছিল। বুধবার রাতে সেই জল্পনার অবসান হয়েছে। তারকেশ্বর থেকে ডানকুনি— জেলার পূর্ব প্রান্তের একের পর এক পুরসভা একদা তৃণমূলের দখলে ছিল। রাজ্যে পালাবদলের পর একে একে শুরু হয় পদত্যাগ পর্ব। সেই ধারাবাহিকতায় এবার যবনিকা পতন হল। প্রায় দু’মাসের মধ্যে ১২টি পুরসভার সব তৃণমূল বোর্ডই আত্মসমর্পণ করল। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এই পদত্যাগের পিছনে রাজ্যের শাসকদল বিজেপির পরোক্ষ ভূমিকা নিয়ে গুঞ্জন থাকলেও প্রকাশ্যে কোনো পদত্যাগী চেয়ারম্যানই মুখ খোলেননি।

Advertisement

রিষড়া পুরসভার চেয়ারম্যান বিজয়সাগর মিশ্র সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি বলেন, বহু বছর ধরে মানুষের জন্য কাজ করেছি। বর্তমানে পরিষেবা দিতে সমস্যা হচ্ছিল। তাই আর পদ আঁকড়ে রাখতে চাইনি। শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি সুমন ঘোষ বলেন, মানুষের কাছে জবাবদিহি করার ভয়েই পুরকর্তারা পালিয়ে যাচ্ছেন। আমরা কাউকে পদ ছাড়তে বলিনি। তৃণমূলের নেতাদের গায়ে ‘চোর’ তকমা লেগে গিয়েছে। মানুষ বিশ্বাস করছে না। তাই ওঁরা মুখ লুকিয়ে পালিয়ে যাচ্ছেন। আমরা প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে নাগরিক পরিষেবা বহাল রাখার কাজ করব। মানুষ আমাদের উপরে ভরসা রেখেছেন। তৃণমূলের চুঁচুড়া-শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদার বলেন, বিজয়সাগর মিশ্র বহু পুরানো জনপ্রতিনিধি। আমার ধারণা, তিনি পরিস্থিতি যাচাই করেই পদক্ষেপ করেছেন। 
গত মে মাসে রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসে। তারপরে প্রথম পদত্যাগ করেন ভদ্রেশ্বর পুরসভার চেয়ারম্যান। সেই শুরু। তারপর একের পর এক পুরসভা থেকে তৃণমূলের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, কাউন্সিলাররা পদত্যাগ করেছেন। এই ধারাবাহিকতার মধ্যে দু’টি পুরসভা শেষপর্যন্ত বেঁচে ছিল। তারমধ্যে উত্তরপাড়ার চেয়ারম্যান তথা তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি দিলীপ যাদব চলতি সপ্তাহে পদত্যাগ করেন। বুধবার রাতে সেখানকার আরও কিছু কাউন্সিলার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তারপরেই রিষড়ার পতন অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। বুধবার রাতে সেখানকার চেয়ারম্যান বিজয়সাগর মিশ্র প্রশাসনকে চিঠি দিয়ে সেই আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, পুরসভার আর্থিক সংকট বহুদিন ধরেই ছিল। তৃণমূল সরকারে থাকায় জোড়াতালি দিয়ে পুরসভাগুলি কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল। সরকার পতনের পর আর্থিক অনিয়মের ইস্যু বড়ো হয়ে ওঠে। সেই পরিস্থিতিতে পুরসভাকে অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়ার পদ্ধতিতে দাঁড়ি পড়ে। সেইসঙ্গে রাজ্যের শাসকদলের স্থানীয় নেতাদের চাপের রাজনীতিও সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই পরোক্ষ সাঁড়াশি চাপের মুখে একে একে আত্মসমর্পণ শুরু করেন তৃণমূলের পুরকর্তারা। শেষপর্যন্ত বৃহস্পতিবার হুগলির তিন মহকুমার পুর রাজনীতিতে তৃণমূলের কর্তৃত্ব কার্যত মুছে গেল। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ