Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘ভোটপাখি’ ফালাকাটার বিজেপি বিধায়ক দীপক বর্মন, বলছেন বাসিন্দারাই

‘ভোটপাখি’ ফালাকাটার বিজেপি বিধায়ক দীপক বর্মন। ভোট এলে পদ্ম শিবিরের বিধায়ক দীপক বর্মনকে এলাকায় উড়ে আসতে দেখা যায়।

‘ভোটপাখি’ ফালাকাটার বিজেপি বিধায়ক দীপক বর্মন, বলছেন বাসিন্দারাই
  • ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

রবীন রায়, আলিপুরদুয়ার: ‘ভোটপাখি’ ফালাকাটার বিজেপি বিধায়ক দীপক বর্মন। ভোট এলে পদ্ম শিবিরের বিধায়ক দীপক বর্মনকে এলাকায় উড়ে আসতে দেখা যায়। ভোট ফুরোলে বিজেপি বিধায়কের আর দেখা মেলে না। বিধানসভা ভোটের মুখে এভাবেই বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে তোপ দাগছেন এলাকার বাসিন্দারা। শুধু তাই নয়, এখনও বিধায়ক তহবিলের এক কোটি টাকা খরচ করতে না পারার কারণেও ভোটের মুখে দীপকবাবু চাপে রয়েছেন। যদিও দীপকবাবুর পাল্টা দাবি, সাধারণ মানুষ নয়। আমাকে ‘ভোটপাখি’ বলছে তৃণমূল কংগ্রেসের লোকজন।

Advertisement

আলুতে সবুজ বিপ্লব ঘটাচ্ছে ফালাকাটা। ফালাকাটা শহর ছাড়িয়ে একটু গ্রামের দিকে এগলেই চোখে পড়বে শুধু আলুর খেত। ফালাকাটার কৃষিমাণ্ডি এখন রাজ্য সেরা। প্রয়াত তৃণমূল বিধায়ক অনিল অধিকারীর জমানায় এই কৃষিমাণ্ডি তৈরি হয়েছে। ফালাকাটার উন্নয়নের রূপকার বলা হয় অনিলবাবুকে।

আরও একটি বিধানসভা ভোট আসতেই সাধারণ মানুষ বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন। ফালাকাটায় অনিলবাবুর উন্নয়নের ধারা বিজেপি বিধায়কের আমলে থমকে যাওয়াতেও কেউ কেউ হা হুতাশও করছেন। বিধানসভার সাতপুকুরিয়া গ্রামের কৃষক নরকান্ত রায় বলেন, বিজেপি বিধায়ককে শেষ পাঁচ বছরে আমাদের এলাকাতে একদিনও দেখতে পাইনি। পাঁচ মাইল হাটে চায়ের দোকান অমূল্য রায়ের। বললেন, দীপকবাবু ‘ভোটপাখি’। ভোট এলে তবেই তিনি এলাকায় উড়ে আসেন। ভোট ফুরোলে আর এলাকায় থাকেন না।

ফালাকাটার কাঠমিল এলাকার রাজীব সরকার এক সময় বিজেপির যুব মোর্চার ব্লক সভাপতি ছিলেন। এখন তৃণমূল করেন। রাজীববাবু বলেন, বিজেপি নেতাদের মুখে উন্নয়নের কথা নেই। তাই বিজেপি ছেড়ে এখন তৃণমূল করি। কয়েক বছর আগে ফালাকাটা শহরে ভয়ংকর শিলাবৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু দুর্গতদের মধ্যে দীপকবাবুকে ত্রিপল বিলি করতে দেখা যায়নি।

সিপিএমের ফালাকাটা-১নং এরিয়া কমিটির সম্পাদক অনির্বাণ রায় বলেন, বিজেপি বিধায়ক দীপক বর্মন ‘ভোটপাখি’। কোনওদিন এলাকায় থাকেন না। শুধু বাড়ির সামনে মাঝে মাঝে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে কার কী সমস্যা তা নিয়ে মানুষকে ডাকেন।

পাঁচ বছর আগে বিধানসভার  বড়ডোবা ও জটেশ্বর-দেওগাঁ রাস্তায় মুজনাই নদীর উপর পাকা সেতু তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বিজেপি নেতারা। কিন্তু আরও একটি ভোট এসে পড়লেও মুজনাইতে সেতু হয়নি। সেতুর দাবি ভুলে গিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক। তৃণমূলের জেলা সাধারণ সম্পাদক শুভব্রত দে বলেন, সদিচ্ছা থাকলে উন্নয়নের কাজ করা যায়। কিন্তু উন্নয়ন তো দূর অস্ত বিজেপি বিধায়ক তো এলাকাতেই থাকেন না। এখন ভোট আসায় আবার তিনি ময়দানে নেমেছেন।

সাধারণ মানুষের এই প্রতিক্রিয়া নিয়ে দীপকবাবু অবশ্য পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষ নয়। আমাকে ‘ভোটপাখি’ বলছে তৃণমূল। সাধারণ মানুষ আমাদের দিকেই আছে।  মুজনাইয়ের উপর রাজ্য সরকারও তো সেতু তৈরি করতে পারত। কেন করেনি? তবে আমার বিধায়ক তহবিলে প্রায় এক কোটি টাকা পড়ে আছে। রাজ্যের অসহযোগিতার কারণে সময়ে তা খরচ করা যায়নি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ