


সংবাদদাতা, সিউড়ি: গত লোকসভা ও পুরসভা ভোটে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন। কিন্তু এখন ভোটার তালিকা থেকে দুবরাজপুরের এক দম্পতির নাম ‘ডিলিট’ করে দেওয়ায় শোরগোল পড়ল। তাঁরা জীবিত অথচ ভোটার তালিকায় ওই দম্পতিকে ‘মৃত’ বলে দেখা যাচ্ছে কমিশনের ভোটার তালিকায়। এতে সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন ওই দম্পতি।
দুবরাজপুর পুরসভার ১নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াংপাড়ার বাসিন্দা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন অচিন্ত্য কবিরাজ। বছর ৪৫-এর অচিন্ত্যবাবুর পরিবারে রয়েছেন স্ত্রী পার্বতী ও একমাত্র কন্যাসন্তান। স্বামী বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হওয়ায় সংসারের হাল ধরেছেন স্ত্রী পার্বতী। বাড়ির সামনে একটি ছোট পানের দোকান চালান। গত লোকসভা ও পুরসভা নির্বাচনে তাঁরা ভোট দিয়েছেন। কিন্তু এখন তাঁদের নাম বাদ যাওয়ায় অথৈ জলে পড়েছেন। দুবরাজপুরের স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব ভোটার তালিকা নিয়ে ওই দম্পতির বাড়ি পৌঁছে যায়। ভোটার তালিকা মিলিয়ে দেখা যায়, ওই দম্পতির নাম ‘ডিলিটেড’ বলে লেখা রয়েছে। কবিরাজ দম্পতি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তুলে ধরেছেন। শাসক-বিরোধী রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। অচিন্ত্যবাবু বলেন, পাড়ার এক ভাইপোর মাধ্যমে জানতে পারি আমাদের নাম নাকি ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ আমরা গত লোকসভা ও পুরসভা ভোটে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছি। শাসকদলের নেতৃত্ব মিলিয়ে দেখে নিশ্চিত করে। নির্বাচন কমিশন কেন এধরনের কাজ করল জানি না। আমাদের সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। প্রশাসন ব্যবস্থা নিক। আমরা সরকারি সুবিধা পাব কিনা তা নিয়েও আতঙ্কে ভুগছি।
উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে শাসকদলের নেতৃত্ব ভূতুড়ে ভোটার খুঁজতে ময়দানে নেমেছে। তারপরই ভোটার তালিকার একের পর এক ভুল প্রকাশ্যে আসছে। যদিও প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভোটারদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিচ্ছেন শাসকদলের কর্মীরা। ভূতুড়ে ভোটার খোঁজার পাশাপাশি ভোটার তালিকার ভুল খুঁজে বের করছেন তাঁরা। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভূতুড়ে ভোটার খোঁজার কাজ চলাকালীন নজরে আসে কবিরাজ দম্পতির নামের পাশে ডিলিটেড লেখা রয়েছে। অ্যাপের সাহায্যে দম্পতির এপিক নম্বর খোঁজার চেষ্টা করা হলে ‘নট ফাউন্ড’ দেখানো হচ্ছে।
দুবরাজপুর পুরসভার চেয়ারম্যান পীযুষ পাণ্ডে বলেন, ভূতুড়ে ভোটার অনুসন্ধানের সময় বিষয়টি নজরে এসেছে। এরজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।