নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সোনারপুরে গ্রেপ্তার হলেন এক ভুয়ো চিকিৎসক। অঙ্কোলজিস্ট পরিচয় দিয়ে প্রায় মাস খানেক ধরে চিকিৎসা করছিলেন তিনি। সোমবার এক রোগী তাঁর কাছে চিকিৎসা করাতে যান। কিছু বিষয়ে তাঁর সন্দেহ হয়। যে ওষুধের দোকানে চেম্বারটি ছিল তার মালিককে তিনি বিষয়টি জানান। তাঁরও সন্দেহ হওয়ায় পুলিশকে খবর দেন। এরপর রোগী সেজে আসেন এক পুলিশকর্মী। বিভিন্ন প্রশ্নের অসংলগ্ন উত্তর দিচ্ছিলেন ওই ভুয়ো ডাক্তার। এরপরই হাতেনাতে পাকড়াও করা হয় তাঁকে। ধৃতের নাম বৃহস্পতি খামারু। বিশ্বজিৎ আচার্য নামে চেম্বার খুলে রোগী দেখছিলেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোনারপুরের ঘাসিয়ারায় চেম্বার খুলে চিকিৎসা শুরু করেছিলেন ধৃত ব্যক্তি। তাঁর বাড়ি রায়দিঘি। এছাড়া মগরাহাটের রাধানগরে একটি চেম্বারের কথা স্বীকার করেছেন তিনি। পুলিশ তদন্তে জানতে পেরেছে, এরকম একাধিক জায়গায় রোগী দেখার জন্য চেম্বার ভাড়া নিয়েছিলেন। নিজেদের হেপাজতে নিয়ে সেই সব জায়গার খোঁজ করবে পুলিশ। সোমবার রাতে ধরা পড়ার পর তাঁর যাবতীয় ডিগ্রি যাচাই করা হয়। দেখা যায়, ওই নামে কোনো রেজিস্ট্রেশন নেই। পুরোটাই ভুয়ো কাগজপত্র নিয়ে মানুষকে বোকা বানাচ্ছিলেন বৃহস্পতি ওরফে বিশ্বজিৎ। এতদিন ধরে কত রোগীকে এইভাবে প্রতারিত করেছেন সেসব নিয়ে জেরার মুখে পড়তে চলেছেন বিশ্বজিৎবাবু।
এদিকে, আরও দুজন সরকারি চিকিৎসককে নিয়েও সন্দেহ দানা বেঁধেছে। তাঁরা রাজপুর সোনারপুর পুরসভার প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মেডিকেল অফিসার হিসাবে কাজ করছিলেন। গত শুক্রবার থেকে আর আসছেন না। অভিযোগ, তাঁদের নথি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়ায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তরফে দুজনকে দেখা করতে বলা হলেও কেউ আসেননি। সূত্রের খবর, বিহারের কলেজ থেকে ডাক্তারি পাশ করে এখানে চাকরি করতে এসেছিলেন দুজনে। রাজ্যের মেডিকেল কাউন্সিলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর রয়েছে দুই ডাক্তারের। অথচ বিহারের যে প্রতিষ্ঠান থেকে তাঁরা পাশ করেছে বলে জানা গিয়েছিল, সেখানে দুজনের নাম নেই বলে খবর। তাই ওই দুই ডাক্তারকে ডেকে তাঁদের যাবতীয় নথিপত্র পরীক্ষা করার কথা ছিল স্বাস্থ্য আধিকারিকদের। দুজনের মধ্যে একজন নরেন্দ্রপুর ও অপরজন সুভাষগ্রামের প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বসতেন। সেখানে আপাতত কোনো ডাক্তার নেই। ফলে বিপাকে পড়েছেন অসংখ্য রোগী।