Bartaman Logo
১৮ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এর্নাকুলামে গ্রেপ্তার জাল নোটের কারবারি , বাংলাদেশির পাসপোর্ট-আধার মুর্শিদাবাদ থেকে: কেরল পুলিস

জাল নোট কারবারে যুক্ত বাংলাদেশি নাগরিকের আধার ও পাসপোর্ট তৈরি হয়েছে মুর্শিদাবাদ থেকে। আবু নাম পাল্টে সে সেলিম মণ্ডল হয়েছে।

এর্নাকুলামে গ্রেপ্তার জাল নোটের কারবারি , বাংলাদেশির পাসপোর্ট-আধার মুর্শিদাবাদ থেকে: কেরল পুলিস
  • ২ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: জাল নোট কারবারে যুক্ত বাংলাদেশি নাগরিকের আধার ও পাসপোর্ট তৈরি হয়েছে মুর্শিদাবাদ থেকে। আবু নাম পাল্টে সে সেলিম মণ্ডল হয়েছে। সেই নামটিও আসল কি না, তা জানতে তদন্ত করছে পুলিস। কেরল পুলিসের হাতে ধৃত বাংলাদেশি সেলিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই তথ্য উঠে আসার পর, তাদের তরফে বিষয়টি জানানো হয়েছে রাজ্য পুলিসকে। পাসপোর্ট নম্বর সহ সমস্ত নথি পাঠানো হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। কীভাবে সে এই নথি জোগাড় করল এবং কে তাকে সাহায্য করেছে জানতে, কেরল পুলিসের টিম শীঘ্রই রাজ্যে আসছে। একইসঙ্গে মালদহে জাল নোট কারবারিদের কাছে সে কাগজ ও কালি পাঠাত বলে খবর।

Advertisement

সপ্তাহখানেক আগে কেরলের এর্নাকুলাম জেলার পেরুমবাভুর থানা এলাকা থেকে ধরা পড়ে সেলিম মণ্ডল। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয়  পাঁচশো টাকার ১৭টি জাল নোট। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন সে ১৮ বছর আগে ভারতে এসেছে। বাংলাদেশ থেকে দালাল মারফত সীমান্ত পেরিয়ে মুর্শিদাবাদের ডোমকলে আসে। ওই দালালই তাকে বাড়ি ভাড়ার ব্যবস্থা করে দেয়। এরপর ডোমকলে স্থানীয় এক এজেন্টকে ধরে  ভুয়ো ঠিকানা দেখিয়ে এদেশের জন্মের শংসাপত্র তৈরি করে। তার ভিত্তিতে তৈরি করে আধার ও ভোটার কার্ড। বাংলাদেশি থেকে ভারতীয় বনে যায়। সেলিম মণ্ডল নাম নিয়ে সে ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ স্বরূপ অন্য নথিও জোগাড় করে ফেলে।  প্রথমে সে  মুর্শিদাবাদ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র বাংলাদেশে পাচার করত। এরপর সে মোবাইল পাচারের কারবারে নামে। বিদেশ থেকে আসা মোবাইল হাতিয়ে সেগুলি সীমান্তের ওপারে পাচার করত। ওই মোবাইলের আইএমআই নম্বর বদলে দিত সে। এই মোবাইলগুলি সেদেশে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র  ও জাল নোটের কারবারিরা ব্যবহার করত। চোরাই মোবাইল সরবরাহ করে তার বিনিময়ে জাল নোট নিত। বৈধ রুটেই সে সীমান্ত পারাপার করবে বলে ডোমকলের ঠিকানা দেখিয়ে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করে। 
কেরল পুলিস জেনেছে, এই কাজে তাকে সাহায্য করে পাসপোর্ট তৈরিতে জড়িত এ রাজ্যের এক দালাল। মাস খানেকের মধ্যে সে পাসপোর্ট হাতে পেয়েও যায়। তার ভিত্তিতে বাংলাদেশে যাওয়ার জন্য ভিসার আবেদন করত। তার কাছ থেকে ভিসার কপিও উদ্ধার হয়েছে। এরপর সে বৈধভাবে বাংলাদেশে গিয়ে সেখান থেকে জাল নোট নিয়ে আসত বলে  জানা যাচ্ছে। কে বা কারা তাকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে পাসপোর্ট, আধার সহ অন্য নথি তৈরিতে সাহায্য করল, তাদের নাম জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। তার মাধ্যমে বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন জাল নোট পাচারকারী এই রাজ্য থেকে নথি তৈরি করেছে বলে খবর। বাংলাদেশ থেকে জাল নোট ছাপানোর কাগজ ও কালি নিয়ে এসে মালদহের বিভিন্ন জাল নোট কারবারিদের দিত।  পাকিস্তানে যোগাযোগ থাকা বাংলাদেশি এক এজেন্ট কাগজ ও কালি নিয়ে এসে সেলিমকে সরবরাহ করত বলে জানা যাচ্ছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ