Bartaman Logo
১১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঝা চকচকে বাড়িতে চলত ভুয়ো আধার কার্ড তৈরি, গ্রেপ্তার যুবক

সালার থানার পুলিশ ঝা চকচকে বাড়িতে ভুয়ো আধার কার্ড তৈরির অভিযোগে যুবক শফিক শেখকে গ্রেপ্তার করেছে। বিস্তারিত পড়ুন।

ঝা চকচকে বাড়িতে চলত ভুয়ো আধার কার্ড তৈরি, গ্রেপ্তার যুবক
  • ১১ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি: ঝা চকচকে বাড়ির সামনে লোহার বড় গেট। সেই বাড়িতেই প্রায় দেড় বছর ধরে গোপনে চলছিল ভুয়ো আধার কার্ড বানানো। সালার থানার কাগ্রামের ঢালিপাড়া। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সালার থানার পুলিশ সেই বাড়িতে হানা দিয়ে উদ্ধার করল আধার তৈরির সরঞ্জাম সহ বহু নথি। অভিযুক্ত এক যুবককে গ্রেপ্তার করে রাতেই তুলে দেওয়া হল সাইবার থানার পুলিশের হাতে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের নাম শফিক শেখ। কাগ্রামেই তার বাড়ি। উচ্চশিক্ষিত এই যুবক বহুদিন ধরেই নিজের বাড়িতে এই দুষ্কর্ম চালাতেন বলে অভিযোগ। অন্যের পাসওয়ার্ড ও আইডিপ ব্যবহার করেই চলত আধার তৈরির কাজ। 

Advertisement

পুলিশ ও বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, মূলত আধার কার্ডের মোবাইল নম্বর ও ঠিকানা পরিবর্তনের কাজ বেশি করত ওই যুবক। তবে অনেক ক্ষেত্রে নতুন আধার কার্ডও বানাত। সে ক্ষেত্রে আবেদনকারীর সঙ্গে রফা করে অন্য জায়গায় নিয়ে গিয়ে নতুন আধার কার্ড তৈরি করা হতো। সপ্তাহে দু’ দিন করে নিজের বাড়িতেই আধার সংশোধনের কাজ করত। এর জন্য ৪০০ টাকা করে গ্রাহকদের কাছে নেওয়া হতো। তবে নতুন আধারকার্ড তৈরি করতে লাগত কমপক্ষে হাজার টাকা। সপ্তাহের প্রতিদিনই খদ্দের জোগাড় করে সংশোধনের জন্য দিন ধার্য হতো। এরপর নির্দিষ্ট দিনে অবেদনকারীকে ফোন করে ডাকা হতো। এভাবেই প্রায় দেড়বছর ধরে চলছিল।
বৃহস্পতিবার গোপন সূত্রে সালার থানার পুলিশ খবর পেয়ে সন্ধ্যায় বাড়ি ঘিরে ফেলে। বাড়ির ভিতরে ঢুকে তল্লাশি নেওয়া হলে আধার তৈরির সরঞ্জাম মেলে। বাজেয়াপ্ত করা হয় একটি ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ফিঙ্গার ও আই স্ক্যানার সহ অন্যান্য সরঞ্জাম। এছাড়াও বিভিন্ন সার্টিফিকেট, আধার কার্ড সহ বহু নথিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। সালার থানার এক অফিসার জানিগেছেন, ধৃত যুবক কোনো বাংলাদেশির আধার কার্ড তৈরি করেছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এদিকে গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবার রাতেই সালার থানার পুলিশ ধৃত যুবককে মুর্শিদাবাদ সাইবার থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয়। ধৃত যুবক জানায়, আধার তৈরির আইডি ও পাসওয়ার্ড কান্দির এক যুবকের কাছ থেকে নেওয়া হতো। যেদিন কাজ করতাম, সেদিন নতুন পাসওয়ার্ড আমাকে দেওয়া হতো। তবে গ্রামে এই কাজ আমি একাই করতাম।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ