নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফর্সা হওয়ার মেডিসিনাল কসমেটিকসের আন্তর্জাতিক চক্রের পর্দাফাঁস হল কলকাতা শহরে। অভিযোগ, শুক্রবার সন্ধ্যায় ইমপোর্ট লাইসেন্স ছাড়াই প্রায় ১৭ কোটি টাকার এই ‘ওষুধ’ আসছিল শহরে। কলকাতা বিমানবন্দরের ঠিক বাইরে ওত পেতে ছিলেন কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোল এবং বিমানবন্দর থানার পুলিস। ‘নিরাপদে’ বিমানবন্দরের ফাঁড়া পেরিয়েছে ভেবে ‘হ্যান্ডলার’রা মাল নামিয়ে গাড়িতে তুলছিল। এমন সময় যৌথ টিম সেই ওষুধ আটক করে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুই ‘হ্যান্ডলার’কে। এমনটাই জানা গিয়েছে ড্রাগ কন্ট্রোল সূত্রে।
শনিবার যৌথ টিমের এক আধিকারিক জানান, বিপুল পরিমাণে ফর্সা হওয়ার কসমেটিকস বেআইনিভাবে শহরে ঢুকছে বলে আগেই সতর্ক করেছিল নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি)। আটক কসমেটিকসের বাজারমূল্য প্রায় ১৭ কোটি টাকা। ইমপোর্ট লাইসেন্স ছাড়াই মালয়েশিয়া থেকে আনা হচ্ছিল এসব। কলকাতা হয়ে তা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে যেত।
সূত্রের খবর, বাজারে ফর্সা হওয়ার কসমেটিকস নামে পরিচিত হলেও সম্ভবত এটি গ্লুটাথায়ন গ্রুপের ‘ওষুধ’। মেডিসিনাল কসমেটিকসের এই ধরনের বাক্সে ৬ ধরনের আলাদা আলাদা তরল থাকে। গ্লুটাথায়ন ছাড়াও থাকে ভিটামিন সি, ভিটামিন বি ১২, হেপারিন ইত্যাদি। সামগ্রিকভাবে মেলানোসাইট বা ত্বকের ক্ষেত্রে বয়স কমানোর কসমেটিকস হিসাবেও অনেকে ব্যবহার করেন। মুখের দাগ বা ছোপ কমাতেও এর কদর আছে। কিন্তু প্রকৃত অর্থে এর ব্যবহার হল গ্লো বা ঔজ্জ্বল্য ফেরানোর জন্য।
চিকিৎসক মহল সূত্রের খবর, পুজোর দোরগোড়ায় মুখের গ্ল্যামার ফেরাতে এসব মেডিসিনযুক্ত কসমেটিকসের চাহিদা চরমে ওঠে। এই ধরনের চক্র তারই ফায়দা নিতে পারে। এই ধরনের লিকুইড সাধারণভাবে নর্মাল স্যালাইনে মিশিয়ে তারপর ইন্টারভেনাস পদ্ধতিতে দেওয়া হয়। বাজেয়াপ্ত করা কসমেটিকসের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এই চক্রের মাস্টারমাইন্ড কারা, কলকাতাসহ বড়ো শহরে এর কালোবাজারি হয় কি না, হলে কীভাবে, কোন কোন দোকান বা বিউটিশিয়ান যুক্ত—সবই তদন্ত করে দেখা হবে।