চরমে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, ডেবরায় মার খেয়ে হাসপাতালে স্বয়ং বিজেপি বিধায়ক!
  • ২ নভেম্বর, ২০২৬ ২০:৫০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, খড়্গপুর: ডেবরায় বিজেপির গোষ্ঠীকোন্দল ঘিরে উত্তেজনা চরমে। দলেরই একাংশের সঙ্গে সংঘর্ষে জখম হলেন বিজেপি বিধায়ক শুভাশিস ওম। সোমবার সন্ধ্যায় তাঁকে ডেবরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পাল্টা বিধায়কের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তুলে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দলেরই একাধিক কর্মী। দু’পক্ষই ডেবরা থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানান, ‘অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

Advertisement

রাজনৈতিক মহলের মতে, ডেবরায় পদ্ম পার্টির দু’টি গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই চাপা বিরোধ রয়েছে। একদিকে ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তন্ময় দাসের অনুগামীরা। অন্যদিকে ‘সঙ্ঘ ঘনিষ্ঠ’ বিধায়ক শুভাশিস ওমের অনুগামীরা। সম্প্রতি বালিচক উৎসবের আয়োজনকে কেন্দ্র করে সেই বিরোধ আরও তীব্র হয়। রবিবার বালিচকের সাধারণ মানুষকে নিয়ে বৈঠক করে সর্বজনীন বালিচক উৎসবের ডাক দেন বিধায়ক। এই উদ্যোগ ঘিরে অপর গোষ্ঠীর নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয় বলে সূত্রের খবর। সোমবার ডুঁয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বিজেপির একাংশ কর্মীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে যান বিধায়ক। অভিযোগ, সেখানে এক বিজেপি কর্মীকে থাপ্পড় মারেন তিনি। তাঁর অনুগামীরাও ওই কর্মীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ। এর পরেই পাল্টা বিধায়ক ও তাঁর অনুগামীদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

বিধায়ক শুভাশিস ওমের দাবি, ডেবরায় বিজেপির কিছু কর্মী ব্যাপক তোলাবাজি চালাচ্ছেন। পুজোর সময় সেই তোলাবাজি চরমে ওঠে। তাঁর অভিযোগ, ‘সামান্য একটি রাবণ দহন অনুষ্ঠানের জন্য ডেবরা বাজার থেকে ২০ লক্ষ টাকা তোলা হয়। বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক সানু দাসের নেতৃত্বে টাকা তোলা হয়েছে। তাঁকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন জেলার এক শীর্ষ নেতা।’ এই বিষয়ে ডেবরার মানুষ অবগত বলেও দাবি করেন তিনি। রাজু মুর্মু-সহ ছ’জন বিজেপি কর্মীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন বিধায়ক। পাল্টা রাজু মুর্মু-সহ বেশ কয়েকজন কর্মী বিধায়কের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ আনেন। অভিযোগ, ডেবরা থানা থেকে বেরোনোর পর বিধায়ককে ফের মারধর করা হয়। এরপর হাসপাতালে গিয়ে মাথায় ব্যান্ডেজ করান তিনি। অপর গোষ্ঠীর কর্মীরাও হাসপাতালে ভর্তি হন। 

খবর পেয়ে হাসপাতালে যান জেলা সভাপতি তন্ময় দাস। তিনি বলেন, ‘কী হয়েছে, খোঁজ নিয়ে বলতে পারব। তবে তোলাবাজি সহ যে কোনও অভিযোগ দলের অভ্যন্তরে জানানো উচিত ছিল। আমরা নিশ্চয়ই তা খতিয়ে দেখতাম। পুরো বিষয়টি রাজ্য নেতৃত্বকে জানিয়েছি।’ বিধায়কের আঘাত নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তন্ময় দাসের মন্তব্য, ‘সবকিছু তো ঠিকঠাকই ছিল। সাংবাদিক দেখার পর মাথায় ব্যান্ডেজ করা হয়েছে!’