Bartaman Logo
২৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘তারকেশ্বর হাইটস’ ঘিরে তোলাবাজি? প্রোমোটারকে অস্ত্র দেখিয়ে খুনের হুমকি

তারকেশ্বরে প্রোমোটার রাজেশ আগরওয়ালকে অস্ত্র দেখিয়ে খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। বিস্তারিত পড়ুন।

‘তারকেশ্বর হাইটস’ ঘিরে তোলাবাজি? প্রোমোটারকে অস্ত্র দেখিয়ে খুনের হুমকি
  • ২৬ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: কয়েক কোটি টাকা আদায়, জোর করে জমি লিখিয়ে নেওয়া, অস্ত্র দেখিয়ে খুনের হুমকি। তারকেশ্বরের বর্তমান পুরপ্রধান উত্তম কুণ্ডু সহ দুই তৃণমূল কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করলেন গিরিশ পার্কের প্রোমোটার রাজেশ আগরওয়াল। পুরসভার চেয়ারম্যান ছাড়াও অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন চেয়ারম্যানের স্ত্রী তথা ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার কুহেলি কুণ্ডু, ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার রূপা সরকার ও চেয়ারম্যানের সহযোগী শ্রীকুমার ঘোষ মণ্ডল।

Advertisement

রাজেশবাবু ভবানী ভবন, তারকেশ্বর থানা সহ একাধিক জায়গায় অভিযোগ করেছেন। তিনি জানান, তারকেশ্বরে একটি দশতলা ভবন নির্মাণে পুরসভার সঙ্গে আমাদের চুক্তি হয়েছিল। চুক্তির পর ৪০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন বর্তমান চেয়ারম্যান উত্তম কুণ্ডু। তাঁর স্ত্রীকে আমাদের সংস্থার অংশীদার করতে বাধ্য করা হয়। তিনি জানান, তারকেশ্বর পুরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা দেবশঙ্কর তা- এর থেকে আমাদের সংস্থা ৩০ শতক জায়গা কেনে। কিন্তু পরে জোর করে চেয়ারম্যানের স্ত্রী কুহেলি কুণ্ডুর নামে জায়গাটি লিখিয়ে নেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ৭ ডিসেম্বর আমাদেরই সংস্থার তৈরি দশ তলা ‘তারকেশ্বর হাইটস’-এর উপরে নিয়ে গিয়ে অস্ত্র দেখিয়ে আমাকে ছাদ থেকে ফেলে খুনের হুমকি দেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্র দেখিয়ে বেশ কিছু কাগজে আমাকে সই করতে বাধ্য করা হয়। আতঙ্কে তারপর থেকে আমি আর তারকেশ্বরে আসতে পারিনি। রাজ্যে পালাবদলের পর অভিযোগ জানালাম।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৩ সালে বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন প্রায় ৪৫ শতক জায়গায় ‘তারকেশ্বর হাইটস’ নামে দশতলা বিল্ডিংটি নির্মাণের জন্য সানফ্লাওয়ার গ্রিন প্রোজেক্ট লিমিটেড নামে এক বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে পুরসভার চুক্তি হয়। চুক্তির পরের দিন বর্তমান পুরপ্রধান, তৎকালীন উপ পুরপ্রধান উত্তম কুণ্ডুর স্ত্রী কুহেলি কুণ্ডু বেসরকারি ওই সংস্থার অংশীদার হন। তবে ১৩ বছর পরে ক্রেতারা এখনও ফ্ল্যাট পাননি। এনিয়ে তারকেশ্বর পুরসভার চেয়ারম্যান উত্তম কুণ্ডু জানান, সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন। আইনিভাবে এর মোকাবিলা করব। আর বিজেপির আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি গণেশ চক্রবর্তী বলেন, একাধিক তৃণমূল নেতা কয়েকশো কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। একজন সিনেমার টিকিট ব্ল্যাক করা ব্যক্তি কীভাবে কয়েকশো কোটি টাকার মালিক হলেন, তার তদন্ত করা প্রয়োজন। এটা বিজেপি সরকার। কোনোভাবেই এঁরা পার পাবেন না। অন্যদিকে, ওই ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমেছে তারকেশ্বর থানার পুলিশ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ