নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: শুক্রবারও রাজ্যজুড়ে চলল খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের অভিযান। এদিন কলকাতার ৯০টি খাবারের দোকান, হোটেল, রেস্তরাঁয় হানা দেন পুরসভার স্বাস্থ্যকর্তারা। পার্ক স্ট্রিটের একাধিক নামী রেস্তরাঁ, দোকানে চলে অভিযান। জানা গিয়েছে, বিভিন্ন দোকানের ফ্রিজারে পচা মাংস রাখার অভিযোগ উঠেছে। মাংসের প্যাকেটের গায়ে কোনো তারিখ ছিল না। মাংসগুলি ফেলে দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে কলকাতার ১৭টি দোকান শো-কজ করা হয়েছে বলে খবর।
দুপুরে বাগদা ব্লকের হেলেঞ্চা বাজারে একাধিক মিষ্টির দোকানে হানা দেন খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা। সেখানে পচা মিষ্টি পাওয়া গিয়েছে। হেলেঞ্চা বাসস্ট্যান্ডের একটি মিষ্টির দোকানে একাধিক বেনিয়ম চোখে পড়ে। তারকেশ্বরে আচারের কারখানায় অভিযান চালায় খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। দেখা যায়, কারখানায় ব্যবহৃত কেমিক্যালের ড্রাম খোলা আকাশের নীচে রাখা। দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে আম, কুল, চালতা সহ বিভিন্ন আচারের কাঁচামাল। কারখানার মালিক দেখাতে পারেননি পর্যাপ্ত নথি। নমুনা সংগ্রহ করে নোটিস দেওয়া হয়। কারখানায় তালা দিয়ে চাবি থানার জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে ধনেখালির চৌতাড়ায় একটি আইসক্রিম কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, মেয়াদ উত্তীর্ণ বিভিন্ন সুগন্ধি ব্যবহার করা হচ্ছে আইসক্রিমে। কিছু আইসক্রিমে ছত্রাক ধরেছে। তারকেশ্বর বৈদ্যপুর এলাকায় একটি পাইকারি কলা বিক্রয় কেন্দ্রে ধরা পড়ে আরও মারাত্মক ছবি। গাছ বৃদ্ধির রাসায়নিক দ্রব্য দিয়ে চটজলদি পাকানো হচ্ছে কলা।
হুগলির পাণ্ডুয়াজুড়েও অভিযান হয়েছে। ফাস্টফুডের দোকান থেকে মিষ্টির দোকানে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের অভিযান চলে। একাধিক জায়গায় পরিচ্ছন্নতার অভাব, মিষ্টি তৈরিতে ব্যবহৃত উপকরণ নিয়ে দপ্তরের কর্তারা প্রশ্ন তুলেছেন। উত্তরপাড়া ও চুঁচুড়ায় বেশকিছু অভিযান হয়েছে। সর্বত্র নানা অনিয়মের অভিযোগে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেছে প্রশাসন। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যে বেশকিছু জায়গায় মজুত খাদ্যসাগ্রমী খারাপ গুণমানের হওয়ায় তা নষ্ট করা হয়েছে। একটি বেকারি, একটি মশলার দোকান সহ বেশকিছু ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান সিল করে দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা স্বাস্থ্য জেলায় রেস্তরাঁ, মিষ্টির দোকান ও খাবারের দোকান মিলিয়ে ২১টি জায়গায় অভিযান চলেছে এদিন। তিনটি রেস্তরাঁ সিল করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি সোনারপুরের ভাতের হোটেল আছে। বাকি দুটি ক্যানিংয়ে। কারণ, তাঁরা প্রচণ্ড অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি করছিল বলে অভিযোগ। কেউ আবার লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করছিলেন। মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার, খাবারে আরশোলা ঘুরছে এমনও দৃশ্য দেখা গিয়েছে। এদিন ১১টি দোকানে নোটিস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ১৫ কেজি সন্দেশ, ১০ কেজি নষ্ট হয়ে যাওয়া রসগোল্লা, ছ’কেজি মাছ, পাঁচ কেজি কাঁচা মাংস ফেলে দিয়েছেন খাদ্য সুরক্ষা বিভাগের আধিকারিকরা। আগামী দিনেও অভিযান চলবে।