Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

কাউন্টার-অ্যাটাকেই মোহন বাগানকে টেক্কা দিয়েছিলেন অভিজ্ঞ প্রদীপদা, একান্ত সাক্ষাৎকারে বাইচুং

শীর্ণ চেহারা। কাঁটাতারের খোঁচায় জামা ফালাফালা। তাতেও হেলদোল নেই। যুবভারতীর ফেন্সিং টপকে বাইচুংয়ের পায়ে সটান ডাইভ এক তরুণের। টেনে হিঁচড়ে সরিয়ে দেয় পুলিস।

কাউন্টার-অ্যাটাকেই মোহন বাগানকে টেক্কা দিয়েছিলেন অভিজ্ঞ প্রদীপদা, একান্ত সাক্ষাৎকারে বাইচুং
  • ১৩ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শীর্ণ চেহারা। কাঁটাতারের খোঁচায় জামা ফালাফালা। তাতেও হেলদোল নেই। যুবভারতীর ফেন্সিং টপকে বাইচুংয়ের পায়ে সটান ডাইভ এক তরুণের। টেনে হিঁচড়ে সরিয়ে দেয় পুলিস। হাজার হাজার মশালের দীপ্ত শিখায় তখন যুবভারতীর আকাশ লাল। সেদিকে অবাক চোখে তাকিয়ে বড় ম্যাচের নায়ক বাইচুং ভুটিয়া। তাঁর হ্যাটট্রিক। অপর গোলদাতা নাজিমুল হকের। ৪-১ গোলে চূর্ণ অমল দত্তের সাজানো বাগান। ঐতিহাসিক ডার্বি জয়ের ২৮ বছর পরেও প্রতিটা মুহূর্ত মনে করতে পারেন লাল-হলুদ জনতার হার্টথ্রব। মুঠোফোনে মুচকি হেসে বাইচুং বললেন, ‘সেই উচ্ছ্বাস ভোলার নয়। আমার কেরিয়ারে অন্যতম সেরা মুহূর্ত।’ 

Advertisement

একদিকে অমল দত্তের সাধের ডায়মন্ড সিস্টেম। অন্যদিকে পিকে ব্যানার্জির ভোকাল টনিক, গেম রিডিং। ট্যাকটিক্স, স্ট্র্যাটেজির ঝনঝনানি। কোন অস্ত্রে আনকাট হিরে গুঁড়িয়ে দেয় ইস্ট বেঙ্গল? বাইচুংয়ের ব্যাখ্যা, ‘ম্যাচের আগে অন্তত সাতদিন কাউন্টার অ্যাটাক অনুশীলন করান প্রদীপদা। ছোট ছোট টাচে বিপক্ষ বক্সে পৌঁছনোর স্ট্র্যাটেজি দারুণ সফল। প্রচুর পাস খেলেছিল মোহন বাগান। তবে ফসল তোলে ইস্ট বেঙ্গলই।’ ডায়মন্ডের দ্যুতিতে তখন চোখ ঝলসাচ্ছে ময়দানের। বাসু, সত্যজিৎ, চিমা, আরপি সিংরা বিপক্ষের ত্রাস। পাসের ফুলঝুরিতে চোখে সর্ষেফুল। তবে অমল দত্তের টাইটানিকেও ছিদ্র ছিল। রক্ষণের দুর্বলতা বুদ্ধিদীপ্ত পিকের নজর এড়ায়নি। গোলরক্ষক হেমন্ত ডোরার উচ্চতা কম। স্টপার অলোক দাস তুলনায় শ্লথ। অন্যদিকে তরতাজা বাইচুং। বেতের মতো নমনীয়।  সিকিম স্নাইপারকে সিঙ্গল স্ট্রাইকার রেখে মাঝমাঠ জমাট করেছিলেন পিকে। সোসো-বাইচুং কম্বিনেশন কাজে লাগাতে টানা ডেড বল মুভ অনুশীলন করাতেন লাল-হলুদ সারথি। বাইচুং বলছেন, ‘জানতাম, কর্নার থেকেই গোল আসবে। পুরো কম্পাসে মাপা বল ভাসিয়েছিল সোসো। সেদিন কাউন্টার অ্যাটাকেই টেক্কা দেন প্রদীপদা।’
বাইচুং তখন সদ্য তরুণ। অথচ তাঁকে ঘিরেই সমর্থকদের আব্দার। কালো চিতা চিমার জবাব তিনি।  ম্যাচের আগে প্র্যাকটিস দেখতেই ভরে যায় গ্যালারি। প্রবল টেনশন। চাপে কুঁকড়ে যাওয়ার বদলে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন বাইচুং। এমনকী খবরের কাগজ পড়াও বন্ধ রাখেন। মুঠোফোনে মন্তব্য, ‘চারিদিকে টেনশন। দারুণ উত্তেজনা। তবে বাড়তি চাপ নিয়ে রাতের ঘুম নষ্ট করতে চাইনি। বরং মনকে বারবার বোঝাতাম।’ আসলে বাইচুংরাএমনই হন। সেরার মঞ্চ বেছে নিতে পারেন বলেই তাঁরা চ্যাম্পিয়ন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ