সংবাদদাতা, হলদিয়া: জামাইষষ্ঠীর বাজারে মহার্ঘ হয়ে উঠেছে ইলিশ। তার উপর যদি হয় রূপনারায়ণ কিংবা গঙ্গার টাটকা ইলিশ, তাহলে তো কথাই নেই! এক কিলো সাইজের ইলিশের কেজি দেড় হাজার টাকার বেশি। টাটকা এবং নদীর লোকাল ইলিশ আরও দামি। হলদিয়া ও মহিষাদলের মাছ বিক্রেতারা জামাইষষ্ঠীর বাজারে এর নাম দিয়েছেন ‘জামাই ইলিশ’। হাতে ছ্যাঁকা লাগলেও জামাইয়ের পাতে সাধের এই ইলিশ তুলে দিতে মরিয়া শ্বশুর শাশুড়িরা। জামাই বরণে টাটকা জামাই ইলিশের খোঁজে জামাইষষ্ঠীর একদিন আগে থেকেই বাজারে ভিড় করছেন তাঁরা। দামে খানিকটা সস্তা হবে এবং টাটকা মিলবে, সেই আশাতে রূপনারায়ণ কিংবা গঙ্গার তাজা ইলিশ কিনতে শুক্রবার সন্ধে ভিড় দেখা গেল গেঁওখালি ও কুঁকড়াহাটির ইলিশ আড়তে। এদিন দুপুরেই কয়েক কুইন্টাল ‘ডায়মন্ড ইলিশ’ এসে পৌঁছেছে হলদিয়ার বড় মাছ বাজার টাউনশিপ মোহনা মার্কেটে। ডায়মন্ড হারবার থেকে সেই ইলিশ সোজা চলে এসেছে হলদিয়ার মাছ বাজারে। সন্ধ্যা হতেই জামাইষষ্ঠীর জন্য সেই ইলিশ কিনতে ব্যাপক ভিড় হয়। শিল্পশহরে ইলিশকে এবার জামাইষষ্ঠীতে সঙ্গত দিচ্ছে ডিমভরা তোপসে। তবে সিজনের শুরু হওয়ায় বাজারে ইলিশের আমদানি বেশ কম। বিক্রেতারা বলছেন, অন্যবারের চেয়ে এবার ইলিশ আগে এসেছে। ক্রেতার চাহিদায় তাঁরা খুশি, দাম বেশি হলেও বিক্রি হচ্ছে ভালোই।
হলদিয়া থেকে মহিষাদল সর্বত্র জামাইষষ্ঠীর জন্য ইলিশ কেনার ধুম পড়েছে। সুযোগ বুঝে কেউ কেউ চড়া দামও হাঁকছেন। হলদিয়ার একটি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের কর্মী আশিস মিশ্র বলেন, জামাইষষ্ঠীতে জামাইকে ইলিশের নানা সুস্বাদু পদ সহযোগে আপ্যায়ন করা বাঙালির পুরনো রীতি। তবে মধ্যবিত্তের পক্ষে দেড় হাজার টাকা দিয়ে ইলিশ কেনা সম্ভব নয়। অনেকে জামাইয়ের জন্য মেনুতে ইলিশের সঙ্গে চিংড়ির পদও রাখছেন। মহিষাদলের এক ক্রেতা ধনঞ্জয় বয়াল বলেন, জামাইষষ্ঠীর ইলিশ কিনতে গিয়ে চমকে উঠছেন সবাই। তবু ইলিশের দাম দেড়, দু’ হাজার যাই হোক, জামাইকে ইলিশ না খাওয়ালে কী চলে। মেনুতে চিংড়ি, পাঁঠার মাংস থাকলেও ইলিশের ভাপা জামাইকে খাওয়াতে না পারলে মন ভরে না। ধনঞ্জয়বাবুর মতো শুধু শ্বশুরমশাইরা নয়, ভিড় ঠেলে রীতিমতো দরদস্তুর করে জামাইয়ের জন্য সেরা ইলিশ কিনছেন লিপিকা প্রামানিকের মতো শাশুড়িরাও। কুঁকড়াহাটির আড়ৎদার চয়ন পাড়ুই বলেন, ইলিশের বাজার চড়া হলেও এবার সিজনের শুরুতে জামাইষষ্ঠী পড়ায় টাটকা ইলিশ মিলছে। গত কয়েকদিন হুগলি নদীতে ভালো ইলিশ উঠছে। বৃষ্টি শুরু হয়েছে সঙ্গে পূবালী হাওয়া থাকায় শুক্রবার সন্ধ্যায় আড়তে প্রায় দেড়শো কিলো ইলিশ উঠেছে। তবে নদীর টাটকা ইলিশের দাম সমুদ্রের ইলিশের চেয়ে বেশি। এক কিলোর নীচের ইলিশ ১০০০-১২০০ টাকা। দেড় কিলো ইলিশ বিক্রি হয়েছে ২২০০-২৪০০ টাকা কিলো দরে। তিনি বলেন, ইলিশের সঙ্গে জামাইষষ্ঠীতে ডিমভরা তোপসের চাহিদা রয়েছে। তোপসে ৭০০-৮০০ টাকা কিলো দরে বিক্রি হচ্ছে। হলদিয়ার টাউনশিপের জানকী মাতা ফিশ সেন্টারের এক বিক্রেতা বলেন, ডায়মন্ড থেকে ভালো সমুদ্রের ইলিশ এসেছে। জামাইষষ্ঠীতে ইলিশের রেট একটু চড়া। ৮০০-৯০০ গ্রামের ইলিশ ১০০০-১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বড় সাইজের দাম আরও বেশি। মহিষাদলের বিক্রেতা লক্ষ্মীকান্ত বেরা বলেন, জামাই ইলিশ দামে চড়া হলেও টাটকা মিলছে। মহিষাদলে জামাইষষ্ঠীর ইলিশের বাজার দর ৬০০ গ্রাম সাইজের ১৩০০ টাকা কেজি, ৪৫০ গ্রামের ১১০০ টাকা, ১ কিলো সাইজের ১৫০০ টাকা, ১২০০ গ্রাম সাইজের ১৮০০ টাকা।