সংবাদদাতা, বারুইপুর: ছাত্র সংঘর্ষের পরে মঙ্গলবার কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে পরীক্ষা হল ভাঙড় মহাবিদ্যালয়ে। পড়ুয়াদের পরিচয়পত্র ও অ্যাডমিট কার্ড পরীক্ষা করে কলেজে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। বাইরের কেউ যাতে কলেজ চত্বরে ঢুকতে না পারেন, সেদিকেও ছিল বিশেষ নজর। পরীক্ষার হল পর্যন্ত কড়া নজরদারি রাখা হয়। গেটের বাইরে ছিল ভাঙড় থানার পুলিশ। এ বিষয়ে জানতে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যাপিকা লুনা কয়ালকে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি ও মেসেজেরও উত্তর দেননি।
কলেজে এখন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের হোম সেন্টার হিসাবে দ্বিতীয় সেমেস্টারের বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা চলছে। কলেজে যাতে নতুন করে অশান্তি না হয় তার জন্য অন্য সেমেস্টারের ক্লাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সেই মর্মে নোটিসও জারি করা হয়েছে। যদিও অনেকের প্রশ্ন, সোমবার যখন কলেজ চত্বরে ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল, তখন কেন একই ধরনের সতর্কতা নেওয়া হয়নি? অভিভাবকরা বলেন, সোমবার যদি এমন নিরাপত্তা থাকত তবে বড়ো ধরনের অশান্তি ঘটত না। আবার কলেজে সংঘর্ষের ঘটনায় আইএসএফ ও সিপিএমের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কারণ, বিধানসভা ভোটের সময় আইএসএফ ও সিপিএম একসঙ্গে জোট বেঁধে লড়াই করলেও ভোটের ফলাফল বের হওয়ার পর থেকে আইএসএফ ও সিপিএমের মধ্যে বারবার সংঘর্ষ হয়েছে এলাকা দখলের লড়াইয়ে। অন্যত্র দুই দলের রাজনৈতিক পরিচয় আলাদা হলেও সোমবার ভাঙড় কলেজে একজোট হয়ে লড়াই করেছে দুটি দলের ছাত্র সংগঠন। এ ব্যাপারে সিপিএম নেতা পলাশ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, যেখানে আমাদের সঙ্গে আইএসএফের নীতি মিলছে সেখানে আমরা একজোট হয়ে লড়ছি। আর যে অশান্তি বিক্ষিপ্ত হয়েছে ভাঙরের সেটা দল হিসাবে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।