


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পয়েন্ট তালিকায় ন’নম্বর থেকে দশে নামতে একদিনও লাগেনি। সোমবার মুম্বই ইন্ডিয়ান্স জিততেই ফের ‘লাস্ট বয়’ কলকাতা নাইট রাইডার্স। বাকি আর সাতটা ম্যাচ। সেরা চার দলের মধ্যে থাকা মোটেই সহজ হবে না অজিঙ্কা রাহানে ব্রিগেডের পক্ষে। বাকি সবক’টি ম্যাচ জিতলে তবেই প্লে-অফের টিকিট নিশ্চিত হতে পারে। সেক্ষেত্রে নাইটদের পয়েন্ট দাঁড়াবে ১৭। সাধারণত, ১৬ পয়েন্টকেই প্লে-অফের গণ্ডি টপকানোর ম্যাজিক ফিগার ধরা হয়। আর বাকি সাতটার মধ্যে ছ’টিতে জিতলে কলকাতার পয়েন্ট হবে ১৫। তখন অন্য দলের পারফরম্যান্সের উপর তখন নির্ভর করবে তিনবারের চ্যাম্পিয়নদের ভবিষ্যৎ। আর যদি বাকি সাতটার মধ্যে পাঁচটার বেশি জেতা না যায়, তখন ১৩ পয়েন্টে থেমে যেতে হবে কেকেআরকে। সেক্ষেত্রে বিদায় একপ্রকার নিশ্চিত। তাই আইপিএলের দ্বিতীয় ভাগে জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই কলকাতার মন্ত্র।
আর সেই লক্ষ্যে মাথিশা পাথিরানাকে সেরা ফর্মে পাওয়া জরুরি। সোমবার ইডেনে দীর্ঘক্ষণ বল করেন তিনি। শ্রীলঙ্কান পেসার খেললে ডেথ ওভারে বোলিং নিয়ে চিন্তা কমবে। রবিবার লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে তাঁকে খেলাতে মরিয়া কেকেআর। সেজন্য দ্রুত পাথিরানাকে ম্যাচ-ফিট করে তোলার চেষ্টা চলছে। তবে তাঁকে খেলাতে হলে চার বিদেশির কম্বিনেশন বদলাতে হবে। সুনীল নারিন, ক্যামেরন গ্রিন খেলবেনই। টিম সেইফার্ট দুটো ইনিংসেই ব্যর্থ। সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি ফিন অ্যালেনও। মিডল অর্ডারে রভম্যান পাওয়েলের তাগিদ রয়েছে। কিন্তু এখনও বড় রান আসেনি তাঁর ব্যাটে। যদি ক্যারিবিয়ান পাওয়ার হিটারকে দলে রাখা হয়, তাহলে পাথিরানা খেললে বাইরে যাবেন সেইফার্ট।
ঋষভ পন্থদের বিরুদ্ধে খেলার জন্য বুধবার লখনউ পৌঁছাবেন নাইটরা। রবিবার মহম্মদ সামি, প্রিন্স যাদব, মহসিন খানদের সামলাতে রিঙ্কু সিংকে ব্যাটিং অর্ডারে এগিয়ে দেওয়া যায় কিনা, তা নিয়েও চিন্তাভাবনা চলছে নাইট শিবিরে। কিছুদিন আগেই সিএবি সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলি কেকেআর ক্যাপ্টেন রাহানেকে পরামর্শ দিয়েছিলেন রিঙ্কুকে আরও বেশি বল খেলার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। এবারের আসরে চারবার পাঁচ নম্বরে নেমে বাঁ-হাতির সংগ্রহ ৭৮। গড় মাত্র ২৬। গুজরাত টাইটান্স ও রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে তিনি নামেন যথাক্রমে সাত ও ছয় নম্বরে। তার মধ্যে রাজস্থানের বিরুদ্ধে তাঁর ব্যাট থেকে আসে ম্যাচ-জেতানো ইনিংস, যা নিশ্চিতভাবে আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছে রিঙ্কুর। আর সে জন্যই তিনি নিজেও চাইছেন ব্যাটিংয়ে আরও উপরে নামতে। শুধু ফিনিশার হিসেবেই নয়, চাপের মুখে রিঙ্কু যে ইনিংস গড়ার ক্ষমতাও ধরেন, সেটা তো দেখাই গিয়েছে!