Bartaman Logo
১৩ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

১০ হাজার আয় হলেই অন্নপূর্ণা নয়

মাসে ১০ হাজার টাকার বেশি উপার্জন করলে মিলবে না অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা। বুধবার নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলন করে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

১০ হাজার আয় হলেই অন্নপূর্ণা নয়
  • ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মাসে ১০ হাজার টাকার বেশি উপার্জন করলে মিলবে না অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা। বুধবার নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলন করে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একইসঙ্গে গ্রামীণ এলাকার উপভোক্তাদের জন্য নিয়মে বেশ কিছু ছাড় দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা করেছেন তিনি। ফলে আগস্ট মাস থেকে অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে গ্রামীণ এলাকার মহিলারা যে বাড়তি সুবিধা পেতে চলেছেন, তা পরিষ্কার। তবে শহর এলাকার ক্ষেত্রে চাপছে বাড়তি নিয়ম। 

Advertisement

সরকারে এসে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বদলে অন্নপূর্ণা যোজনা চালু করে বিজেপি সরকার। ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি মহিলাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তিন হাজার টাকা করে দেওয়া শুরু হয়। প্রথমে জুন মাসে আর্থিক সুবিধা পান ২৮ লক্ষ মহিলা। তার পরের মাসের (জুলাই) প্রথম সপ্তাহেই সংখ্যাটা পৌঁছায় ১ কোটি ২০ লক্ষে। কিন্তু আগস্টের প্রথম সপ্তাহে রাজ্য সরকার টাকা না ছাড়ায়, অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয় মানুষের মনে। রাজ্যের তরফে জানানো হয়, পুনরায় সমস্ত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। বাড়ি বাড়ি যাচাই করে চূড়ান্ত উপভোক্তা তালিকা তৈরি হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ৩১ জুলাই শেষ হয়ে গিয়েছে এই প্রকল্পে আবেদনের সময়সীমা। অর্থাৎ, আর কেউ অন্নপূর্ণায় নতুনভাবে আবেদন করতে পারবেন না। এদিন মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, ‘এই প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা সমাজ কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী মালতী রাভা রায় আগামী ১৭ আগস্ট জানিয়ে দেবেন, মোট কতজন টাকা পাবেন। ওইদিন থেকেই অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে। কিন্তু সব উপভোক্তার কাছে টাকা পৌঁছাতে দু’-তিনদিন সময় লাগবে। এরপর থেকে প্রতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে অন্নপূর্ণার টাকা পৌঁছে যাবে।’ শুভেন্দু জানিয়েছেন, উপভোক্তার সংখ্যা অনেকটাই বাড়ছে। সেই ক্ষেত্রে এই অর্থবর্ষের শেষ আট মাসের জন্য বরাদ্দ বেড়ে হতে পারে ৪৮ থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকা। আগে ধরা ছিল ৩৫ হাজার কোটি টাকা।
সরকারি চাকরিজীবী এবং আয়করদাতারা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন না। ক্ষমতায় এসেই তা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিল বিজেপি। তবে এদিন মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, মাসে ১০ হাজার টাকা আয় করলেই আর অন্নপূর্ণার টাকা পাবেন না। এছাড়া তাঁর পরিবারের কেউ যদি আয়কর দিয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রেও এই প্রকল্প কার্যকর হবে না। শর্ত শিথিল করা হয়েছে কেবল গ্রামীণ স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘বাড়িতে তিনটি পাকা ঘর থাকলে সুবিধা না মেলার যে নিয়ম রয়েছে, তা গ্রামীণ এলাকায় বসবাসকারী মহিলাদের জন্য কার্যকর হবে না।’ সেক্ষেত্রে একটি বিষয় পরিষ্কার, শহর এলাকায় বসতবাড়িতে তিনটি পাকা ঘর থাকলে সেই আবেদনকারী মহিলা কিন্তু অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন না। একইসঙ্গে বাড়তি শর্ত চাপানো হয়েছে কলকাতা, হাওড়া, বিধাননগর, শিলিগুড়ি, দুর্গাপুর এবং আসানসোল, এই সাতটি বড় পুরসভার বাসিন্দাদের জন্য। তাঁদের নামে ৫০ ডেসিমেল জমি থাকলেই তাঁরা বঞ্চিত হবেন অন্নপূর্ণা থেকে। তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এবং পিএম কিষান প্রাপকরা অন্নপূর্ণার সুবিধা পাবেন। শর্ত শিথিল হয়েছে বিধবা ভাতা প্রাপকদের জন্যও। ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে কেউ বিধবা ভাতা পেলে (দেড় হাজার টাকা), তাঁর ক্ষেত্রে প্রকল্পটি অন্নপূর্ণা যোজনায় বদলে যাবে। অর্থাৎ তিনি ৩ হাজার টাকাই পাবেন। এসবের পরও অন্নপূর্ণা যোজনা সংক্রান্ত অভিযোগ পোর্টাল খোলা রাখবে রাজ্য। সেখানে আসা অভিযোগ খতিয়ে দেখে নিষ্পত্তি করবেন বিডিওরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ