Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

খাতায় কলমে ছাত্রছাত্রী থাকলেও, বেলা ১২ টাতেই তালা পড়ে স্কুলে

খাতায় কলমে শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের পশড়া পিতুল সাহা জুনিয়র হাইস্কুলে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা তিনজন। শিক্ষক সংখ্যা দু’জন। শুক্রবার বেলা ১২টায় স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, স্কুলে তালা ঝুলছে। স্কুলে কোনও পড়ুয়া নেই।

খাতায় কলমে ছাত্রছাত্রী থাকলেও, বেলা ১২ টাতেই তালা পড়ে স্কুলে
  • ২ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্রীকান্ত পড়্যা  তমলুক

Advertisement

খাতায় কলমে শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের পশড়া পিতুল সাহা জুনিয়র হাইস্কুলে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা তিনজন। শিক্ষক সংখ্যা দু’জন। শুক্রবার বেলা ১২টায় স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, স্কুলে তালা ঝুলছে। স্কুলে কোনও পড়ুয়া নেই। আসেননি শিক্ষক-শিক্ষিকাও। লাগোয়া আলুয়াচক জুনিয়র হাইস্কুল। সেখানে খাতায় কলমে পড়ুয়া সংখ্যা পাঁচ। শুক্রবার ওই স্কুলে উপস্থিত ছিল তিনজন পড়ুয়া। সকাল সাড়ে ১১টার সময় স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, একটি ক্লাসরুমে একটি বেঞ্চে তিন পড়ুয়াকে পড়াচ্ছেন দীপেন্দু ভোক্তা। তিনজন শিক্ষকের মধ্যে হাজির মাত্র একজন। সাংবাদিক পরিচয় জানার পরই দীপেন্দুবাবু স্কুলের টিচার ইন-চার্জ প্রকাশচন্দ্র মণ্ডলকে ফোন করেন। অপর সহ শিক্ষক সন্তু মাইতিকেও ফোন করে স্কুলে সাংবাদিক আসার খবর জানান। দুপুর ১২টা থেকে পৌনে ১টার মধ্যে দু’জনেই হন্তদন্ত হয়ে স্কুলে আসেন।
শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকে একাধিক জুনিয়র হাইস্কুলে পড়ুয়া নেই। স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিযুক্ত শিক্ষকরা কার্যত বসে বসে মাইনে নিচ্ছেন। স্কুলে পড়ুয়া না থাকায় শিক্ষক-শিক্ষিকারাও সেই সুযোগ নিচ্ছেন। তাঁরা বাড়িতেই বসে থাকছেন বলে অভিযোগ। এই অভিযোগ খতিয়ে দেখতেই শুক্রবার শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের ওই দুই প্রাইমারি স্কুলে যাওয়া। পশড়া পুতুলশাহ জুনিয়র হাইস্কুলে টিচার ইন-চার্জ বিশ্বজিৎ বেরা এবং সহ শিক্ষিকা পম্পা বিশ্বাস আছেন। এদিন বেলা ১২টায় স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, তালা ঝুলছে। স্থানীয় বাসিন্দা প্রণব জানা বলেন, দীর্ঘদিন এখানে কোনও পড়ুয়া আসে না। শিক্ষক-শিক্ষিকারা মাঝেমধ্যে ঘুরে চলে যান। 
২০১২ সালে পশড়া পিতুল সাহা জুনিয়র হাইস্কুল তৈরি হয়। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস হয়। এক সময় এখানে ৫৫জন পড়ুয়া ছিল। তিনজন শিক্ষক শিক্ষিকা ছিলেন। স্বরূপানন্দ চট্টোপাধ্যায় নামে একজন শিক্ষক কলেজে চাকরি পাওয়ার পর এখান থেকে চলে গিয়েছেন। এই মুহূর্তে দু’জন আছেন। 
ওই স্কুলেব টিচার ইন-চার্জ বিশ্বজিৎবাবু বলেন, আমাদের তিনজন পড়ুয়ার মধ্যে একজন ড্রপআউট। বাকি দু’জন শারীরিক প্রতিবন্ধী। তারা প্রতিদিন স্কুলে আসে না। শুক্রবার আমি চোখের ডাক্তার দেখানোর জন্য স্কুলে যাইনি। আর ছেলের পরীক্ষা থাকায় শিক্ষিকা দেরিতে স্কুলে পৌঁছেছেন।
খারুই-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন আলুয়াচক জুনিয়র হাইস্কুলে একসময় ৮৭ জন পড়ুয়া ছিল। ২০১১ সালে তৈরি হওয়া ওই স্কুলে গত পাঁচ-ছ’বছর ধরে দ্রুত পড়ুয়ার সংখ্যা কমতে শুরু করে। এখন খাতায় কলমে মোট পড়ুয়ার সংখ্যা পাঁচ। স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিযুক্ত শিক্ষক আছেন তিনজন। তাঁদের মাইনে দিতে সরকারের প্রতি মাসে প্রায় পৌনে দু’লক্ষ টাকা খরচ হয়। অথচ তাঁরা নিয়মিত আসেন না বলে অভিযোগ। শুক্রবার শুধুমাত্র দীপেন্দুবাবু উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিক যাওয়ার খবর পেয়ে বাকি দু’জন বেলার দিকে স্কুলে হাজির হন। এনিয়ে ওই স্কুলের টিচার ইন-চার্জ প্রকাশচন্দ্র মণ্ডল বলেন, আমি পৌনে ১২টা নাগাদ স্কুলে যাই। স্কুলে যাওয়ার পথে বাইকে সমস্যা হওয়ায় সন্তুবাবুও একটু দেরিতে স্কুলে আসেন। তবে, আমরা নিয়মিত স্কুলে যাই।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ