Bartaman Logo
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

স্ত্রী শয্যাশায়ী হলেও শোকেসে তাঁর হাসি! মূর্তির মাধ্যমেই স্মৃতি ধরে রাখতে চান মধ্যমগ্রামের অশীতিপর শিক্ষক

স্ত্রীর হাসিটা তাঁর খুব চেনা। হাসলেই ঠোঁটের দু’ধারে ফুটে উঠত ছোট্ট টোল

স্ত্রী শয্যাশায়ী হলেও শোকেসে তাঁর হাসি! মূর্তির মাধ্যমেই স্মৃতি ধরে রাখতে চান মধ্যমগ্রামের অশীতিপর শিক্ষক
  • ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: স্ত্রীর হাসিটা তাঁর খুব চেনা। হাসলেই ঠোঁটের দু’ধারে ফুটে উঠত ছোট্ট টোল। স্ত্রী এখন বয়সের ভারে ন্যুব্জ, শয্যাশায়ী। কালের নিয়মে হাজারো বলিরেখা ভর করেছে স্ত্রীর শরীরে। ফলে চেনা হাসিমুখ আর দেখতে পান না অষ্টআশি পেরনো বৃদ্ধ ভূপতিরঞ্জন। তাই নিজেই প্লাস্টার অব প্যারিস দিয়ে স্ত্রী অঞ্জলির মূর্তি গড়েছেন তিনি। সেই মূর্তির মুখে তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন সেই চেনা হাসি। 

Advertisement

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ভূপতিরঞ্জন দেবনাথ থাকেন মধ্যমগ্রামের বঙ্কিমপল্লিতে। শিক্ষকতার পাশাপাশি চার দশকেরও বেশি সময় ধরে শিল্পচর্চা করছেন তিনি। মাটি, নারকেল, গাছের ডাল সহ নানা উপকরণ দিয়ে তিনি তৈরি করেছেন অসংখ্য মডেল। সেসব শোভা পায় মাস্টারমশাইয়ের বাড়ির শোকেসে। তার পাশেই ঠাঁই পেয়েছে স্ত্রী অঞ্জলি দেবনাথের সেই মূর্তি। উস্তাদ বড়ে গুলাম আলি খান, উস্তাদ আলাউদ্দিন খান, মান্না দে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের ছবি এঁকেছেন তিনি। তাঁর আঁকা ছবি এতটাই জীবন্ত যে, দেখলে মনে হবে সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন তাঁরা। তাঁর শিল্পকর্ম বিভিন্ন প্রদর্শনীতেও গিয়েছে। জীবনে আঘাতও পেয়েছেন তিনি। করোনার সময় ছেলেকে হারিয়েছেন এই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। বাড়িতে স্ত্রীর পাশাপাশি রয়েছেন পুত্রবধূ ও নাতি-নাতনি। দুই মেয়েও থাকেন কাছাকাছি। পেনশনের টাকাতেই চলে সংসার। তবু থামেনি শিল্পচর্চা। হাতে আগের মত আর জোর নেই। তাই স্ত্রীর মূর্তি বানাতে তাঁর মাস দু’য়েক সময় লেগেছে। ভূপতিবাবু বলেন, স্ত্রীর ওই হাসিটা আমার খুব প্রিয় ছিল। এখন ওকে শয্যাশায়ী অবস্থায় দেখতে পাই। তাই ওর হাসিমুখ দেখার ইচ্ছা হলেই ছুটে যাই ওই মূর্তির কাছে। এটা আমার কাছে শুধু শিল্পকর্ম নয়, স্মৃতিকে ধরে রাখাই লক্ষ্য।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ