নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে হাওড়া জেলায় ঘাসফুলের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। কলকাতার পাশের এই শিল্পাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের দুর্ভেদ্য ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত ছিল। কিন্তু এবারের বিধানসভা নির্বাচনে সেই সমীকরণ বদসে ফেলল বিজেপি। হাওড়া সদরের আটটি আসনের মধ্যে চারটিতে জয় ছিনিয়ে ঘাসফুলের গড়ে কার্যত ভাঙন ধরাল পদ্ম শিবির। একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থীর পরাজয় এই পরিবর্তনের ইঙ্গিত আরও স্পষ্ট করেছে। যদিও শেষ পর্যন্ত চারটি আসনে জয় ধরে রেখে আংশিকভাবে নিজেদের শক্তি বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে তৃণমূল।
সবচেয়ে বেশি চর্চিত উত্তর হাওড়া কেন্দ্রে এবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর জয় পেয়েছে বিজেপি। দলের প্রার্থী উমেশ রাই প্রায় ছ’হাজারের বেশি ভোটে পরাস্ত করেছেন তৃণমূলের জেলা সদরের সভাপতি গৌতম চৌধুরীকে। একই ছবি শিবপুরেও। এখানে বিজেপির রুদ্রনীল ঘোষ ১৬ হাজার ৫৮ ভোটে হারিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী রানা চট্টোপাধ্যায়কে। রাজনৈতিক মহলে চর্চিত বালি কেন্দ্রেও ঘাসফুল শিবিরকে ধাক্কা খেতে হয়েছে। বিজেপির সঞ্জয় সিং প্রায় পাঁচ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছেন। শুধু শহর নয়, গ্রামীণ এলাকাতেও বিজেপির প্রভাব স্পষ্ট। জগৎবল্লভপুর কেন্দ্রে তৃণমূলের সুবীর চট্টোপাধ্যায়কে ৬ হাজার ৬৭১ ভোটে হারিয়েছেন বিজেপির অনুপম ঘোষ।
তবে পুরোপুরি জমি ছাড়েনি তৃণমূল। মধ্য হাওড়া কেন্দ্রে বর্ষীয়ান নেতা অরূপ রায় দু’হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হয়ে গড় রক্ষা করেছেন। দক্ষিণ হাওড়ায় নন্দিতা চৌধুরী ৭ হাজার ৮২৮ ভোটে জয় পেয়েছেন। সাঁকরাইল ও ডোমজুড় কেন্দ্রে তৃণমূলের জয়ের ব্যবধান ছিল উল্লেখযোগ্য। সাঁকরাইলে প্রিয়া পাল ১৬ হাজার ৭৪০ ভোটে জয়ী হন, আর ডোমজুড়ে তাপস মাইতি ৪১ হাজার ৭২০ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জিতে জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ জয়ের রেকর্ড গড়েছেন। সব মিলিয়ে, হাওড়া জেলায় এবারের ফলাফল স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে- রাজনৈতিক মেরুকরণ তীব্র হয়েছে এবং আগামী দিনে এই জেলার রাজনৈতিক লড়াই আরও জমাট বাঁধতে চলেছে।