Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘শহরে বাড়ির ছাদে টিনের শেড দিতে গেলেও লাগবে পুরসভার অনুমতি’

বাড়ির ছাদে টিনের শেড দিতেও এবার লাগবে পুরসভার অনুমোদন। কারণ, ছাদ ঢাকার জন্য যে লোহার কাঠামো তৈরি করা হয়, তা কতটা মজবুত, ঝড়ে সেটি উড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে নিশ্চিত হতে চাইছে পুরসভা।

‘শহরে বাড়ির ছাদে টিনের শেড দিতে গেলেও লাগবে পুরসভার অনুমতি’
  • ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাড়ির ছাদে টিনের শেড দিতেও এবার লাগবে পুরসভার অনুমোদন। কারণ, ছাদ ঢাকার জন্য যে লোহার কাঠামো তৈরি করা হয়, তা কতটা মজবুত, ঝড়ে সেটি উড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে নিশ্চিত হতে চাইছে পুরসভা। তাই যত্রতত্র নিয়মকানুন না মেনে টিনের শেড দেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ চাইছে তারা। সম্প্রতি মেয়র ফিরহাদ হাকিম একথা জানিয়েছেন। এক্ষেত্রে বাড়ির স্ট্রাকচারাল স্টেবিলিটি সার্টিফিকেটও খতিয়ে দেখা হবে।

Advertisement

রোদের তাপে খোলা ছাদের নীচের ঘর গরম হয়ে ওঠে। জলছাদ না করা থাকলে বৃষ্টিতে ছাদের সমস্যা হতে পারে। তাই অনেকে টিনের শেড দিয়ে ছাদ ঢেকে দেন। গত কয়েক বছর ধরে এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। লোহার কাঠামো তৈরি করে টিনের শেড লাগানো হয়। তাতে একদিকে যেমন নীচের ঘর কিছুটা কম গরম হয়, তেমনই বর্ষাকালে কাপড়-জামা শুকোতে সুবিধা হয় গৃহস্থের। কিন্তু কোনো নিয়মের তোয়াক্কা না করেই এসব শেড দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মজবুত কাঠামো তৈরির বাড়তি খরচের কথা চিন্তা করে অনেকেই হালকা লোহার স্ট্রাকচার ছাদের উপর দাঁড় করিয়ে টিনের শেড লাগিয়ে দিচ্ছেন। তাতেই বাড়ছে বিপদের শঙ্কা। কারণ, এধরনের কাঠামো সবসুদ্ধ উড়ে যেতে পারে জোরালো ঝড়ে। লোহার স্ট্রাকচার ভেঙে আশপাশে পড়লে সেখান থেকেও বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে বউবাজার অঞ্চলের ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার বিশ্বরূপ দে পুরসভার মাসিক অধিবেশনে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এই শেড কতটা আইনি, পুরসভার নজরদারি রয়েছে কি না, জানতে চান তিনি। তার প্রেক্ষিতে মেয়র বলেন, ‘আমাদের নজরে রয়েছে। এই ধরনের শেড দেওয়ার জন্য এবার থেকে এলবিএসকে (লাইসেন্স বিল্ডিং সার্ভেয়ার) দিয়ে প্ল্যানিং জমা করতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিল্ডিংয়ের স্ট্রাকচারাল স্টেবিলিটি সার্টিফিকেট জমা করতে হবে। যার ভিত্তিতে শেড লাগানোর অনুমতি দেবে পুরসভা।’

পুর কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, এই ধরনের শেড নিয়ে বর্তমানে পুরসভার কোনো নির্দিষ্ট আইন নেই। শহরজুড়ে বহু বাড়ি, এমনকি ফ্ল্যাটবাড়িতেও এমন শেড লাগানো হচ্ছে। কেউ অনুমতি নেয় না। বিল্ডিং বিভাগের এক কর্তা বলেন, ‘নির্দিষ্ট আইন নেই। ফলে কেউ কিছু করলে সরাসরি পুরসভা হস্তক্ষেপ করতে পারে না। তবে অভিযোগ পেলে আমরা হস্তক্ষেপ করি। সেক্ষেত্রে জরিমানা নেওয়া হয় কিংবা যে অংশে শেড লাগানো হয়েছে, ওই অংশটুকু ফ্লোর এরিয়া হিসেবে ধরে রেগুলারাইজ করে ফি নিয়ে নেওয়া হয়। এক্ষেত্রে নাগরিক হয়রানি বেশি হয়। যে খরচে গৃহস্থ শেড লাগিয়েছেন, জরিমানা দিতে গিয়ে তার থেকে বেশি খরচ হয়ে যায়। তাই এ সংক্রান্ত নির্দিষ্ট আইন জরুরি। তাছাড়া, আজকাল অনেকে বাড়িতে সোলার প্যানেল বসাচ্ছে। শেডের উপরেও সেটা বসানো যায়। ফলে, ছাদ ‘অকুপাই’ হয়ে থাকে না। ব্যবহার করা যায়।’ আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন আইন প্রয়োজন। তাই মেয়রের নির্দেশ মোতাবেক শীঘ্রই এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করবে পুরসভা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ