স্বপন দাস, কাকদ্বীপ: খোলা আকাশের নীচেই পুজো হয় কালীর। মানুষের এটাও বিশ্বাস, পাকা ঘর দিলেও কালী নেন না। একদিনের মধ্যেই ছলেবলে কৌশলে ভেঙে দেন। এমনকি তাঁর মূর্তিও স্থাপন করা যায় না। কয়েকদিনের মধ্যে মূর্তিও দেন ভেঙে। তাই খোলা আকাশের নীচেই পুজো হয় নামখানার ফ্রেজারগঞ্জের বিজয়বাটি গ্রামের কালীস্থানের কালীর।
জানা গিয়েছে, প্রায় ১৫০ বছর আগে নামখানার ফ্রেজারগঞ্জ ছিল জঙ্গলে ভরা। জঙ্গল কাটার কাজ চলাকালীন একটি ‘বাণী’ গাছের নীচ থেকে শিলা উদ্ধার হয়। তারপর রাতে ওই অঞ্চলের তৎকালীন জমিদারের স্বপ্নে আসেন কালী। বলেন, ‘শিলার বেশে এখানে এসেছি। পুজো কর।’ এরপর জমিদারের উদ্যোগে তখন একটি নির্দিষ্ট স্থানে শিলা প্রতিষ্ঠা করা হয়। কালীর পুজো আরম্ভ হয়। সেই পুজো এখনও চলছে মহাসমারোহে।
বঙ্গোপসাগরের পাশে ম্যানগ্রোভের জঙ্গলের ভিতর কালীর শিলার প্রতিষ্ঠা হয়। যেখানে শিলাটি প্রতিষ্ঠিত সে জায়গা থেকে কিছুটা দূরে রয়েছে গ্রামের নদীবাঁধ। দেবীর প্রতিষ্ঠা স্থান থেকে সেই বাঁধ প্রায় তিনফুট উঁচু। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, আয়লা বা উমপুনের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় যখন নদীবাঁধ টপকে গ্রামে জল ঢুকে যায় তখনও দেবীর শিলা ডোবে না। গ্রামবাসীরা তা দেখে চমৎকৃত। তাঁদের বিশ্বাস, দেবী অত্যন্ত জাগ্রত। তাঁর মহিমা ব্যাখ্যাতীত। তাঁর কাছে কোনো মানত করলে তা পূরণ হয়। তাই দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা আসেন। মানত করেন। পুজো দিয়ে যান। অশ্বিনী গুড়িয়া নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘এখানে প্রতিদিনই পুজো দেওয়া হয়। কালীপুজোর সময় জাঁকজমক করে হয় পুজো। সে সময় অস্থায়ীভাবে মাথার উপরে ছাউনি করে মণ্ডপ তৈরি করা হয়। পুজো শেষ হয়ে গেলে নেওয়া হয় খুলে। বহু মানুষ মন্দির তৈরি করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু দেবী ঘেরাটোপের মধ্যে থাকতে চান না। পুরোহিতকে তিনি স্বপ্নে জানিয়েছিলেন, খোলা আকাশের নীচেই থাকবেন। তাই খোলা আকাশের নীচেই দেবীর পুজো হয়।’



