Bartaman Logo
১৫ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

স্বাধীনতার ৭৯ বছর পরও শিল্পাঞ্চলে কাটেনি বিদ্যুতের সংকট, সার্ভে শুরু

স্বাধীনতার ৭৯ বছর পর বিস্তীর্ণ শিল্পাঞ্চলএলাকায়বাড়ি,বাড়িবিদ্যুৎ পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ানিয়ে শুরু হয়েছে এক সংকট। দশকের পর দশক ধরে আসানসোল রানিগঞ্জ খনি এলাকার গ্রামগুলিতে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে এসেছে ইসিএল।

স্বাধীনতার ৭৯ বছর পরও শিল্পাঞ্চলে কাটেনি বিদ্যুতের সংকট, সার্ভে শুরু
  • ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: স্বাধীনতার ৭৯ বছর পর বিস্তীর্ণ শিল্পাঞ্চলএলাকায়বাড়ি,বাড়িবিদ্যুৎ পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ানিয়ে শুরু হয়েছে এক সংকট। দশকের পর দশক ধরে আসানসোল রানিগঞ্জ খনি এলাকার গ্রামগুলিতে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে এসেছে ইসিএল। প্রয়োজন না থাকায় সরকারি বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার পরিকাঠামো গড়ে ওঠেনি এলাকাগুলিতে।এখন সেসব এলাকাগুলিতেই বিদ্যুৎ সরবরাহ থেকেহাত গুটিয়ে নিতে চাইছেইসিএল। আর তাতেই গ্রামে, গ্রামে শুরু হয়েছেবিদ্যুতের ব্যাপক সংকট। তবে আশার খবর, দ্রুত শিল্পাঞ্চল এলাকার গ্রামগুলিতে ডব্লুবিএসইডিসিএলের তরফে বিদ্যুৎ পৌঁছাতে সমীক্ষা শুরু হবে। 

Advertisement

রাজ্যে এখন ডবল ইঞ্জিন সরকার। কেন্দ্রের মতোই পশ্চিমবঙ্গেও বিজেপি ক্ষমতাসীন দল। কিন্তু এরপরেও কেন্দ্রীয় সংস্থার বিদ্যুৎ পরিষেবা না দেওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ খনিঅঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামের মানুষজন। দীর্ঘক্ষণ ধরে বিদ্যুৎ পরিষেবা না থাকায় গলদঘর্ম হচ্ছেন এলাকাবাসী। লাটে উঠছে পড়াশোনা। এই পরিস্থিতিতে অশনি সংকেত বুঝে উদ্যোগী হয়েছেনজামুড়িয়ারবিধায়ক বিজন মুখোপাধ্যায়। বিজনবাবু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা বিধানসভা এলাকাসহ খনি অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় এই সমস্যায় ভুগছি। বিগত সরকারগুলির আমলেও মানুষ সমস্যায়পড়েছেন। বিজেপি সরকারে আসার পরই বিদ্যুৎ দপ্তর এই বিষয় নিয়ে ভাবনা-চিন্তা শুরু করেছে। আমরা চেষ্টা করছি যেসব এলাকায় ইসিএল বিদ্যুৎ দেয় সেই এলাকাগুলিতে ডব্লুবিএসইডিসিএলের বিদ্যুৎ পরিষেবা পৌঁছাবে। 
ডব্লুবিএসইডিসিএলের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, বিদ্যুৎ দপ্তর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে।  খনি অঞ্চল জুড়ে আমরা সমীক্ষা চালাব। এলাকায় এতদিন শুধুইসিএলবিদ্যুৎ পরিষেবা দিয়ে এসেছে। সেসব এলাকায় আমাদের বিদ্যুতের লাইন নিয়ে যেতে কী, কী করতে হবে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 
জামুড়িয়া থানা এলাকার মধ্যেই পরিহারপুর। আসানসোল পুরসভা তিন নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত এই এলাকা।এমনকী, পুরসভা এলাকায় গ্রামের থেকেও খারাপ অবস্থা রয়েছে। এলাকার পাশেই রয়েছে গিরমিট কোলিয়ারি। এই পুর এলাকায় এতদিন ইসিএল বিদ্যুৎ দিত। এখন সেখানে তাঁদের প্রজেক্ট কার্যত গুটিয়ে গিয়েছে। হাজার, হাজার পরিবারকে বিদ্যুৎ পরিষেবা দিতে চাইছে না তাঁরা। নানা শর্ত চাপানো হচ্ছে। কোথাও আবার দিনে মাত্র কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ দিয়েইদায়সারছে ইসিএল। 
সিপিএম নেতা আব্দুল কাইয়ুম বলেন, বিনামূল্যে এলাকার বিদ্যুৎ ও জল পরিষেবা দেওয়া ইসিএলের কর্তব্য। তাঁরা সেই নিয়ম মানছে না। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে মানুষ আর বিনামূল্যে বিদ্যুৎ না নিয়ে অর্থ খরচ করে বিদ্যুৎ নিতে চাইছেন। দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছি, ডব্লুবিএসইডিসিএল যেন আমাদের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। বিধায়ক যদি উদ্যোগী নেন,তাহলে আমরা তাঁকে স্বাগত জানাব। 
শুধুপরিহারপুর এলাকাই নয়,ডোবরানা,চিচুড়িয়াএলাকাতেও একই সমস্যা রয়েছে। এমন পর্যায়েইসিএললুকিয়ে রাতের অন্ধকারে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে। আসন্ন পুজো পর্যন্ত ইসিএলকেবিদ্যুৎ দেওয়ার অনুরোধ করেছেন বিধায়ক বিজন মুখোপাধ্যায়। এদিকে, বিদ্যুৎ সংযোগ দিলে যেমন গ্রাহকের সংখ্যা বাড়বে ডব্লুবিএসইডিসিএলের তেমনই রাজস্বও আসবে। তা করতে গিয়ে পরিকাঠামো উন্নয়ন খাতে কত খরচ করতে হবে বর্তমানে সেই হিসাবে চলছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ