


সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: পার্কিংজোন তৈরি না করায় যানজটে বিদ্ধ গঙ্গারামপুর শহর। ১৯৯৪সালে গঙ্গারামপুর পুরসভা গঠন হয়। এই ৩১ বছরে ক্ষমতার বদল হয়েছে। অথচ এত বছরে শহরে পার্কিংজোন টুকুও তৈরি করতে পারেনি কোনও বোর্ড। ফলে যানজট শহরবাসীর নিত্যসঙ্গী। শহরের চৌপথী থেকে তপন রোড, ও শিববাড়ি রোডে প্রত্যেকদিন ব্যাপক যানজট হচ্ছে। তিনচাকা ও দুচাকার যানবাহনের দখলে থাকছে রাজ্য ও জাতীয় সড়ক। নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছতে না পেরে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে পুর নাগরিকদের মধ্যে। তারা এর থেকে নিস্তার চাইছেন।
বাম আমলে পুরসভা গঠনের পর পার্কিংজোন নিয়ে আর ভাবাই হয়নি বলে অভিযোগ। ২০১৫ সালে গঙ্গারামপুর পুরসভার ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস। শহরবাসীর একাংশের অভিযোগ, তৃণমূল পরিচালিত বোর্ড মাঝে পার্কিংজোন নিয়ে উদ্যোগী হলেও তা আর এগোয় না। তবে পুরসভা পার্কিং জোন তৈরি করতে পারলে একদিকে শহরের যানজট কমবে, অপরদিকে পুরসভার নিজস্ব আয় বাড়বে।
মহকুমার সদর শহরে চিকিৎসা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যপরিষেবা নিতে মহকুমার বাসিন্দারা আসেন। চারচাকা, দু’চাকা ও তিনচাকা যানবাহন পার্কিং করতে গিয়ে প্রায়ই সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ মানুষ। বর্তমানে টোটো নিয়ন্ত্রণ করতে না পাড়ায় শহর অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। গঙ্গারামপুর পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের উপকণ্ঠে পার্কিংয়ের জন্য পর্যাপ্ত জায়গার অভাব রয়েছে। এমন পরিস্থিতে শহরের একমাত্র পতিত জায়গা রয়েছে পূর্তদপ্তরের। দপ্তর তাদের জায়গা পুরসভাকে পার্কিংয়ের জন্য দিতে নারাজ, চিঠি দিয়ে তা পরিষ্কার করেছে পূর্তদপ্তর। কিভাবে পুরসভা পার্কিংয়ের সমস্যা সমাধান করবে, শহর যানজট মুক্ত করবে সেটি এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
সুর চড়িয়ে গঙ্গারামপুর শহরবাসী সিপিএম জেলা কমিটির সদস্য অচিন্ত চক্রবর্তী বলেন, বর্তমানে শহরে দুর্বিসহ অবস্থা। বাইক নিয়ে বাজার করতে বেরোলে শহরে বাইক কোথায় রাখতে হবে সেটি বড় প্রশ্ন এসে দাঁড়ায়। পার্কিং সমস্যায় সর্বদলীয় বৈঠক ডাকুক, আমরা জায়গার পরামর্শ দেব। ছোট ছোট স্ট্যান্ড করে শৃঙ্খলায় নিয়ে আসতে পারলে সমস্যার সমাধান হবে।
বিজেপি টাউন সভাপতি বৃন্দাবন ঘোষ বলেন, শহরের পার্কিং সমস্যা ও যানজট নিয়ন্ত্রণে পুরসভার পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। পুরসভায় অনেক কিছু হচ্ছে। কিন্তু, সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয়তাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।
গঙ্গারামপুর পুরসভার চেয়ারম্যান প্রশান্ত মিত্র বলেন, মহকুমা প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে আমরা শহরের পার্কিংজোন করার জন্য জমি চিহ্নিত করেছিলাম। কিন্তু পূর্তদপ্তর তাদের জায়গা পার্কিংয়ের জন্য দিতে নারাজ। এমন পরিস্থিতে আমরা শহরের থেকে একটু দূরে বেশ কয়েকটি জায়গা চিহ্নিত করে আমাদের দপ্তরে পাঠিয়েছি তথ্য। খুব দ্রুত আমরা শহরের পার্কিংয়ের সমস্যা সমাধান করতে পারব।