Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এটিএম জালিয়াতি: ৪৮ ঘণ্টা পরও অধরা অভিযুক্ত, আতঙ্কে শহরবাসী

এটিএম জালিয়াতি: ৪৮ ঘণ্টা পরও অধরা অভিযুক্ত, আতঙ্কে শহরবাসী
  • ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘ক্লু’ বলতে শুধুমাত্র সিসি ক্যামেরার ফুটেজ। তাও পুলিসের ভাষায় ‘কংক্রিট’ নয়। তার ভিত্তিতেই সার্ভে পার্কে এটিএম জালিয়াতির ঘটনায় অভিযুক্তকে হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিস। কিন্তু ৪৮ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও কালো টুপি-মাস্ক পরা যুবক এখনও ফেরার। অভিযুক্ত এখনও ধরা না পড়ায় শহরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। কারণ প্রশ্ন উঠেছে, এই সময় শহরের অন্য কোনও রক্ষীহীন এটিএমে একই কারসাজি সে করছে না তো? 
Advertisement
শুক্রবার রাতে কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামের কাছে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের  এটিএমে জালিয়াতি হয়। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ অনুযায়ী, রাত ৯টা ১৫ মিনিট নাগাদ ওই এটিএমে প্রবেশ করে এক যুবক। টুপি-মাস্ক পরা সেই যুবক এটিএম মেশিনে কার্ড ঢোকানোর স্লটে একটি আঠালো টেপ লাগিয়ে দেয়। তাতেই আটকে যায় এক গ্রাহকের কার্ড। সেই সঙ্গে ব্যাঙ্কের কাস্টমার কেয়ার নম্বরের জায়গায় একটি ভুয়ো নম্বর সেঁটে দেয় মাস্ক পরা যুবক। কার্ড না বের করতে পেরে ওই গ্রাহক থানায় যাওয়ার জন্য বেরিয়ে যেতেই ফের এটিএমে ঢোকে অভিযুক্ত। আটকে থাকা ডেবিট কার্ডটি বের করে নিয়ে চম্পট দেয় সে। এর কিছুক্ষণের মধ্যে ২৫ হাজার টাকা গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে ‘ডেবিট’ হয়ে যায়। পরে  আরও একটি মেসেজ থেকে তিনি জানতে পারেন, আরও ৮০ হাজার টাকা গায়েব হয়ে গিয়েছে। 
পুলিসের অনুমান, ওই এটিএমের কাছেই লুকিয়ে ছিল যুবক। এরপর সে আঠা লাগানো টেপ সার্ভে পার্ক এলাকার অন্য কোনও এটিএমে লাগিয়েছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিস। এই জায়গা থেকেই শহরবাসীর আশঙ্কা, শহরের অন্যান্য এটিএমেও এরকম প্রতারণার ফাঁদ পাতা নেই তো? বেহালার বাসিন্দা শুভময় সরকার বলেন, ‘আমি চাকরি থেকে অবসর নিয়েছি বেশ কয়েকবছর হল। এটিএম মেশিনই টাকা তোলার একমাত্র ভরসা আমার জন্য। অ্যাপ বা অনলাইন লেনদেন করতে পারি না। সার্ভে পার্কের ঘটনা দেখে আমি আতঙ্কিত।’ গিরিশ পার্কে থাকেন সুস্মিতা ভট্টাচার্য। পেশায় শিক্ষিকা। তাঁর বক্তব্য, ‘বিহার, উত্তরপ্রদেশে এ ধরনের ঘটনা দেখা গিয়েছে। সিনেমা, ওয়েব সিরিজেও দেখেছি। কিন্তু খাস কলকাতায় এরকম জালিয়াতি অবিশ্বাস্য। ব্যাঙ্কের নজরদারি না থাকলে আরও এসব বাড়বে।’ 
লালবাজারের এক আধিকারিক বলেন, ‘শহরের কোন কোন এটিএমে নিরাপত্তারক্ষী নেই, তার একটি তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে থানাগুলিকে। ওই এটিএমগুলি কীভাবে সুরক্ষিত রাখা যায়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।’ সূত্রের খবর, শহরের এটিএমগুলি সুরক্ষিত রয়েছে কি না, যাচাই করার জন্য ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষগুলির সঙ্গেও বৈঠকে বসতে পারে লালবাজার।  ফাইল চিত্র
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ