Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের হাত ধরে বাহিরী ব্রজসুন্দরী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা

শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রতিষ্ঠিত ব্রজসুন্দরী বিদ্যালয় ৮৪ বছরে পদার্পণ করেছে। শিক্ষার প্রসারে তাঁর অবদান অপরিসীম। বিস্তারিত পড়ুন।

শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের হাত ধরে বাহিরী ব্রজসুন্দরী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা
  • ৬ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: রাজ্য সরকারের নির্দেশে এবছর প্রথমবার রাজ্যের প্রতিটি বিদ্যালয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিন পালিত হচ্ছে। আর সেই আবহেই বীরভূমের বোলপুর-শ্রীনিকেতন ব্লকের বাহিরী ব্রজসুন্দরী উচ্চ বিদ্যালয় যেন ফিরে দেখছে নিজের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। কারণ, এই বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা স্বয়ং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। ১৯৪৩ সালের ৯ জুলাই তাঁর হাত ধরেই এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পথচলা শুরু হয়েছিল। তখন থেকে প্রতি বছর ৯জুলাই বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করা হয়। শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় প্রতিষ্ঠাতাকে।

Advertisement

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিষ্ঠার সময় গ্রামের রায়দের বাড়িতে প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল। পরে ধাপে ধাপে তা পূর্ণাঙ্গ উচ্চ বিদ্যালয় এবং পরবর্তীতে উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত হয়। প্রথম প্রধান শিক্ষক ছিলেন প্রয়াত বিষ্ণুপদ রায়চৌধুরী। তিনি প্রথমে কলকাতার একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। হিন্দু মহাসভায় যোগদানের সূত্রেই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীকালে গ্রামে একটি আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নিলে তাঁর আহ্বানেই বাহিরীতে আসেন শ্যামাপ্রসাদবাবু। মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি।
স্থানীয়দের কথায়, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুষ্ঠানের দিন গ্রামের মহিলারা শ্যামাপ্রসাদবাবুর উদ্দেশে গান ও কবিতা পরিবেশন করে তাঁকে সংবর্ধনা জানান। সেই অনুষ্ঠানের প্রত্যক্ষদর্শী রথীরঞ্জন রায় এখনও জীবিত। প্রতি বছর প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে তাঁকেই সভাপতির আসনে বসিয়ে সেই ঐতিহাসিক দিনের স্মৃতিচারণ করা হয়। সেদিনের ছবি সংরক্ষিত রয়েছে। 
বিদ্যালয়ের ইতিহাস বলছে, প্রথমদিকে এটি শুধুমাত্র বালকদের জন্য ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয় হিসেবে গড়ে উঠেছিল। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় নিজেই তৎকালীন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তির ব্যবস্থা করে দেন। পরে তাঁরই নির্দেশে বিদ্যালয়ের দরজা খুলে দেওয়া হয় ছাত্রীদের জন্য। সেই সিদ্ধান্তই এই অঞ্চলে নারীশিক্ষার প্রসারে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হয়ে ওঠে।
বিদ্যালয়ের নামকরণও জড়িয়ে রয়েছে এলাকার ইতিহাসের সঙ্গে। গ্রামের সমাজসেবী ব্রজসুন্দরী দেবীর স্মৃতিকে অমর করে রাখতে তাঁর পুত্র অদ্বৈতনাথ রায়, ষষ্ঠীনাথ রায় ও শিবদাস রায় সহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্যোগে বিদ্যালয়ের নাম রাখা হয় ব্রজসুন্দরী উচ্চ বিদ্যালয়। তাঁদের সহযোগিতায় বিদ্যালয়টি ক্রমশ শিক্ষা ও সংস্কৃতির অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে। ২০১৯সালে এই স্কুল ৭৫ বছর পূর্তি উদযাপন করে। বর্তমানে ৮৪তম বর্ষে পদার্পণ করেছে এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। প্রধান শিক্ষক অমিতাভ কোনার বলেন, ড: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় শুধু এই বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা নন, তিনি এই অঞ্চলের শিক্ষার ভিত নির্মাণ করেছিলেন। তাঁর দূরদৃষ্টি ও শিক্ষাচিন্তার ফলেই আজও এই বিদ্যালয় শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের ধারক-বাহক হিসেবে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ