Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

থিম পুজোর দৌড়ে গড়ে উঠছে আস্ত দেশ, কোথাও আবার সামাজিক বার্তা

থিম পুজোর দৌড়ে গড়ে উঠছে আস্ত দেশ, কোথাও আবার সামাজিক বার্তা
  • ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: বাঙালির দুর্গাপুজো মানেই বিবিধের মাঝে মিলন মহান। তা বিবিধ পোশাক থেকে খাওয়াদাওয়া, বিনোদনের আঙ্গিকে যেমন আছে, তেমনই আছে পুজোর থিমে। থিম আবার পুজো এলেই কল্পনার মস্ত উড়ান দেয়। তাতেই থিমপুজোর আঙিনায় নানা হীরে, মোতি, চুনি-পান্না ঝিকিয়ে ওঠে। চোখ ধাঁধায়। কল্পনার অখণ্ড স্বাধীনতায় বাংলার আধ চেনা, বহুল চেনা নগরীর বুকে নামে আস্ত দেশ। কোথাও সমাজচেতনার রঙে রাঙিয়ে ওঠে দেবদেউল, দেবী প্রতিমা। সব পেয়েছির দেশে মিলে যায় কল্পনা, আবেগ, চমকের হাতছানি, অনেক কিছু।

Advertisement

কল্পনার বেলাগাম উড়ানে হুগলির প্রাচীন জনপদ বলাগড়ের জিরাটে তৈরি হচ্ছে আস্ত একটি দেশ। ভ্যাটিক্যান সিটিকে অনেকে পৃথিবীর অন্যতম ক্ষুদ্রতম দেশবেলে থাকে। সেটিই গঙ্গাপাড়ের জনপদে নামিয়ে আনছে কালিয়াগড় পূর্বপাড়ার টিএনএস ক্লাব। ১২০ ফুট চওড়া ও ৯০ ফুট লম্বা সেই ‘দেশ’ এ সবকিছুই তৈরি হচ্ছে ভ্যাটিকানের আদলে। স্থাপত্য থেকে পথঘাট, প্রাচীর থেকে প্রার্থনা কক্ষ, অবিকল তুলে ধরার কাজে নেমেছেন একদল শিল্পী। আলোকসজ্জাতেও থাকছে ভ্যাটিকানের অনুকরণ। শুধু প্রভু যিশুর নাম সংকীর্তনের পরিবর্তে পুজোতে বাজবে বৈদিক সুর। দেবী দশভুজা থাকবেন ‘বলাগড়ের ভ্যাটিকান’ আলো করে। ইতিমধ্যেই ওই মণ্ডপসজ্জা নিয়ে এলাকায় সাড়া পড়েছে। নির্মাণ কাজ দেখতেই প্রতিদিন বহু মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, মূলত ফাইবার দিয়ে মণ্ডপ গড়ে তোলা হচ্ছে। সঙ্গে বিশেষ রকম ফোম ব্যবহার করা হবে। পুজো উদ্যোক্তা তথা জিরাট গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান তপন দাস বলেন, সুন্দর করে সাজানো হচ্ছে ভ্যাটিকান সিটি। আমরা প্রয়াসে কোনও ফাঁক রাখছি না। সাম্প্রতিক সময় আমাদের পুজো নিয়ে দর্শক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তার মর্যাদা আমরা দেব। মণ্ডপে আধুনিকতা থাকলেও আমাদের দেবী রাজ রাজেশ্বরী, সাবেক ধাঁচে মণ্ডপে অবস্থান করবেন। 
চুঁচুড়ার বেগুনতলাতেও তৈরি হচ্ছে একটি ‘দেশ’। একটি দেশের মধ্যে থাকা সেই দেশের নাম অভাবের দেশ। অভাবের কারণে খুলে যাচ্ছে শিশু শ্রমের সিংহদরজা। শিশুরা পেটের টানে, সংসারের জাঁতাকলে পিষতে পিষতে বই, শৈশব ফেলে চলে যাচ্ছে উপার্জনের খোঁজে। সেই বাস্তবতাকেই পুজো মণ্ডপে তুলে ধরতে চাইছেন বেগুনতলা জাগরণী সঙ্ঘের উদ্যোক্তারা। তাদের থিমের নাম ‘মুক্তি’। দেবী এখানে হতদরিদ্র মায়ের বেশে হাজির থাকবেন। শিশু শ্রমিকের কান্নায় সামিল বিশ্বজননী। আধুনিক ভাবনার মণ্ডপ তাই দেবীর রূপও আধুনিক। ক্লাবকর্তা আবীর দত্ত বলেন, সমস্যা যেমন আছে তেমন মায়ের আর্শীবাদে ‘মুক্তি’র পথও আছে। দু’য়ে মিলেই আমাদের থিম।
শহরে গড়ে উঠছে দেশ, দেশের মধ্যে গড়ে উঠছে ক্ষুধার রাজ্য। দেবীপক্ষ আসন্ন। ফাইবার, ফোম, কাঠ, কংক্রিটের বুননে স্বপ্নের দেশ হয়ে উঠছে হুগলি, গঙ্গাপাড়ের নগরী। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ