


মেলবোর্ন: ৫৪৬৮ দিন অর্থাত্ প্রায় ১৫ বছর! দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জিতল ইংল্যান্ড। শেষবার ২০১১ সালে ডনের দেশে ধ্রুপদী আসরে এসেছিল জয়। শনিবার অ্যাসেজের চতুর্থ টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ডের সর্বাধিক রান করা জেকব বেথেলের বয়স তখন সাত! সেই সময় নোভাক জকোভিচের ঝুলিতে মাত্র একটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম। আর এখন তিনি পুরুষদের টেনিসে সর্বাধিক গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিক (২৪টি)। এই সময়কালে আই ফোনের বাজারেও ঘটেছে মস্ত বিপ্লব। তখন ছিল অ্যাপল ফোর, আর এখন অ্যাপল সেভেনটিন ম্যাক্স প্রো! অজি মুলুকে ইংরেজদের সাফ্যলের খরা সাক্ষী থেকেছে আরও কত না বিবর্তনের।
মেলবোর্নে ইংল্যান্ডের ৪ উইকেটে জয়ের গুরুত্ব এতেই স্পষ্ট। যতই পরাজয়ের হ্যাটট্রিকে অ্যাসেজ আগেই হাতছাড়া হোক না কেন, এদেশে ১৮ টেস্ট পর খরা কাটিয়ে ওঠা নিশ্চিতভাবে স্বস্তি দিচ্ছে ইংল্যান্ড ক্যাপ্টেন বেন স্টোকসকে। নিজেদের পাতা ফাঁদেই যে রক্তাক্ত হল অস্ট্রেলিয়া। চুরমার হল স্টিভ স্মিথদের হোয়াইটওয়াশ করার স্বপ্নও। পাঁচ টেস্টের অ্যাসেজ এখন ৩-১। সঙ্গত কারণেই, মেলবোর্নের পিচ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এই পরাজয় অজিদের কাছে মারাত্মক লজ্জারও। বক্সিং ডে টেস্ট দু’দিনও স্থায়ী হয়নি। এই নিয়ে টেস্টের ইতিহাসে চতুর্থবার দু’দিনে ম্যাচ হারল অস্ট্রেলিয়া। শেষবার এমন অপমানিত হতে হয়েছিল ১৮৯০ সালে। অবশ্য এবার পারথেও দু’দিন ম্যাচের ফয়সালা হয়েছিল। পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, অ্যাসেজে একই সিরিজে একাধিক টেস্ট দু’দিনে শেষ হওয়ার ঘটনা ১৩৭ বছর পর ঘটল।
অ্যাসেজ খোয়ানোর ভয় অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার নেই। তবে বক্সিং ডে টেস্টের পিচ মহাবিতর্কের জন্ম দিল। ব্যাটসম্যানদের কাছে যা হয়ে উঠল অভিশপ্ত। শুক্রবার, ম্যাচের প্রথম দিনেই পড়েছিল ২০ উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার ১৫২ রানের জবাবে ইংল্যান্ড ১১০ রানে গুটিয়ে যায়। শনিবার ৪৬ রানের লিড নিয়ে নেমেছিল হোমটিম। তখন মনে হয়েছিল স্টোকস ব্রিগেডের ভাগ্যে আরও একবার লজ্জা অপেক্ষা করছে। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ডের বোলাররা জ্বলে উঠেন। প্রশংসা প্রাপ্য ব্রাইডন কার্সের। চার উইকেট নিয়েছেন তিনি। প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়া জস টংয়ের শিকার দুই। টেস্টে সাত উইকেট নিয়ে তিনিই ম্যাচের সেরা। স্টোকস নেন তিন উইকেট। অস্ট্রেলিয়া থামে ১৩২ রানে।
১৭৫ রানের টার্গেটে ছয় উইকেট হারিয়ে পৌঁছয় সফরকারী দল। রান তাড়ায় ইংল্যান্ডের শুরুটা ভালো করেছিলেন দুই ওপেনার জ্যাক ক্রলি (৩৭) ও বেন ডাকেট (৩৪)। জো রুট (১৫) ও স্টোকস (২) অবশ্য বড় রান পাননি। তবে জেকব বেথেল (৪০) ও হ্যারি ব্রুকের (অপরাজিত ১৮) ব্যাটে নাটকীয় জয় ছিনিয়ে নেয় ইংল্যান্ড। যার পরিপ্রেক্ষিতে আক্ষেপের সুর ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াতেও। টেস্টের শেষ তিনদিন খেলা না হওয়ার ফলে বাণিজ্যিকভাবে বড় ক্ষতির মুখে অজি বোর্ড। ক্ষতির অঙ্কটা প্রায় ৬০ কোটি টাকা!