নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: দশদিন আগে রাজপুর সোনারপুর পুরসভার ময়লাপোতা এলাকা থেকে একটি নীল ব্যাগে উদ্ধার হয়েছিল এক প্রৌঢ়ের পচাগলা দেহ। সেই রহস্যের কিনারা করল সোনারপুর থানার পুলিশ। টাকাপয়সা সহ অন্যান্য কারণ নিয়ে বাবার সঙ্গে ঝামেলার জেরে তাঁকে খুন করে ওই ব্যাগে ভরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হল ইঞ্জিনিয়ার পাশ ছেলেকে। মৃতের নাম রঞ্জন রায়চৌধুরী (৫৯)। আর ধৃতের নাম রাজর্ষি রায়চৌধুরী।
পুলিশ জানতে পারে, বাবার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ঝামেলা চলছিল তাঁর। ২০ জুন কথা কাটাকাটির সময় আচমকা একটি ডাম্বেল দিয়ে বাবার মাথায় আঘাত করলে সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর। এরপর দেহ লোপাট করতে সেটি ব্যাগে ভরে ফেলে দেওয়া হয় পুরসভার ডাম্পিং গ্রাউন্ডে। ঘটনার পর এলাকার একটি সিসিক্যামেরার ফুটেজ দেখে পুলিশ জানতে পারে যে, একটি ছোট হাতি গাড়ি করে ওই ব্যাগ ময়লাপোতায় ফেলা হয়েছিল। এরপর ওই গাড়ির চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে, কোন বাড়ি থেকে ওই ব্যাগটি আনা হয়েছিল। এরপর ওই বাড়িতে ঢুকে পুলিশ তল্লাশি করার সময় একটি ঘর থেকে চাপ চাপ রক্ত দেখতে পায়। সেই ঘরের পাশে বাথরুমে মাটি অর্ধেক খোঁড়া ছিল। পরে পুলিশ জানতে পারে বাবাকে মেরে সেখানেই পুঁতে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছিল ছেলে। সব তথ্য পাওয়ার পর রাজর্ষিকে ফোন করে ডাকে পুলিশ। কিন্তু তিনি আসছি বলে ফোন বন্ধ করে দেন।
এদিকে, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে পুলিশ জানতে পারে যে, মৃতের মাথার পিছনে আঘাত রয়েছে। এছাড়া ওই চালককে জেরা করে পুলিশ আরো জানতে পারে, ২২ জুন রাজর্ষি ওই চালককে ফোন করে বলেন যে, তিনটি ভাম বিড়াল মারা গিয়েছে। দুর্গন্ধ বেরচ্ছে, তাই তাঁদের দেহ ফেলতে হবে। এই কাজের জন্য চালককে ছয় হাজার টাকা দেওয়া হয় এবং মদ্যপান করানো হয়। রাজর্ষির কথা মতো গাড়ি নিয়ে চালক আসেন ময়লাপোতায়। সেখানে দুজনে মিলে ব্যাগটি ফেলে দেন।
সবটা জানার পর শেষমেশ শুক্রবার রাতে ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই চালককে সাক্ষী হিসাবে ব্যবহার করা হয়। বারুইপুর আদালতে ধৃতকে তোলা হলে ১৪ দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।