নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বছর দেড়েক আগে বিধানসভায় বিল এনে শিল্প সংক্রান্ত সমস্ত ‘ইনসেনটিভ’ দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল পূর্বতন সরকার। সেদিনই এ রাজ্যে ‘ইন্ডাস্ট্রির কফিনে লাস্ট পেরেকটা পোঁতা হয়ে গিয়েছিল। মঙ্গলবার বিধানসভায় শিল্প বাজেট নিয়ে আলোচনায় এভাবেই আগের সরকারের সমালোচনায় বিঁধলেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। ইতিমধ্যে এই ‘ইনসেনটিভ স্কিম’ ফিরিয়ে নিয়ে আসার তোড়জোড়ও শুরু হয়েছে বলে খবর।
এদিন তাপসবাবু বলেন, ‘এখানে যাঁরা তৃণমূলের বিধায়ক রয়েছেন, তাঁদের বলি, শিল্পের জন্য ল্যান্ড ব্যাংক দেননি, ল্যান্ড পলিসি দেননি, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পলিসি দেননি, ইজ অফ ডুইং বিজনেস দেননি, ইনসেনটিভ দেননি। অন্য সমস্ত রাজ্য যেখানে ইনসেনটিভ দিচ্ছে, সেখানে এরাজ্যে ইনসেনটিভ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সেদিনই ইন্ডাস্ট্রির কফিনে লাস্ট পেরেকটা মেরে দিয়েছিল। আজকে আমাদের ছোটাছুটি করতে হচ্ছে।’ শিল্পমন্ত্রী জানান, এই সরকারের বয়স মাত্র ২ মাস ১২ দিন। এর মধ্যেই রাজ্যে রেকর্ড বিনিয়োগ এসেছে। আমূল গুজরাতের সংস্থা হওয়ার কারণে আগের সরকার বাংলায় তাদের ঢুকতে দেয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। সেই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, ‘এসব করতে গিয়েই এসইজেড-এ বাধা পড়েছে। আবার নানা ধরনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, জমি ও অন্যান্য অনুমতির জন্য পয়সাকড়ি চাওয়ার জন্যও রাজ্যের এই পরিণতি। ৬৬৮৮ জন শিল্পপতি রাজ্য ছেড়ে চলে গিয়েছেন।’ তবে দেশের মানচিত্রে পাশ্চিমবঙ্গের ভাবমূর্তি উজ্বল করতে তাঁদের ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার মাঠে নেমে পড়েছে বলেই জানান তাপসবাবু। তার জন্য রতন টাটা বেঁচে থাকলে তাঁর পায়ে ধরে তাঁকে তিনি ফিরিয়ে আনতেন বলে জানিয়েছেন তাপসবাবু। তাঁর আশ্বাস, রাজ্যজুড়েই বিনিয়োগ হবে। আগস্ট মাসের মাঝামাঝি একটি শিল্প সংস্থার নতুন ‘প্লান্ট’-এর উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দুর্গাপুর যাবেন।