নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ-খুন কাণ্ডে নয়া মোড়। ‘এনকাউন্টারে’ খতম অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল। মঙ্গলবার রাত ১২টা ৪৫ নাগাদ ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য অভিযুক্ত প্রভাসকে নাবালিকার মৃতদেহ উদ্ধারস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের দাবি, সেই সময় ‘সিট’-এর সদস্য এক সাব ইনস্পেক্টর রনি সরকারের রিভলভার ছিনিয়ে গুলি চালিয়ে দেয় প্রভাস। চেষ্টা করে পালানোর। তখনই আত্মরক্ষার্থে পালটা দু’রাউন্ড গুলি চালান সিটের সদস্য অপর এক সাব-ইনস্পেক্টর অর্ঘ্য মণ্ডল। তাতেই মারাত্মক জখম অবস্থায় বারুইপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন প্রভাসকে। পালাবদলের বাংলায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুমুল আলোড়ন শুরু হয়েছে। ভোট প্রচারে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ধর্ষকদের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন—‘কথা দিয়ে গেলাম... কোর্টে পাঠাব না। সকালে জমা, বিকালে খরচ হয়ে যাবে।’ বারুইপুর কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্তের ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রীর সেই হুঁশিয়ারি কার্যকর করা হল কি? প্রশ্ন উঠেছে। তবে সমাজমাধ্যমে বিজেপির সোনারপুর উত্তরের বিধায়ক, প্রাক্তন পুলিশ কর্তা দেবাশিস ধর মুখ্যমন্ত্রীর ছবি দিয়ে পোস্ট করেছেন—‘সকালে জমা, বিকেলে খরচ’। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য। ঘটনার পুনর্নির্মাণে যাওয়া সিটের সদস্যদের বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে। বারুইপুর থানায় একটি খুনের মামলাও শুরু হয়েছে। রাজ্য পুলিশের ডিজি সহ প্রশাসনের শীর্ষস্তর সক্রিয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে সরকার বিষয়টি জানিয়েছে রাজ্য ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে। পরিবারের সদস্য ও ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মৃতের সুরতহালনামা এবং ময়নাতদন্তের ভিডিওগ্রাফিও হয়েছে। তাতেও অবশ্য বিতর্ক মাথাচাড়া দিচ্ছে। বিরোধীরা এই ‘প্র্যাকটিসে’র সঙ্গে সরাসরি তুলনা টানছে যোগীরাজ্যের। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বক্তব্য, ‘কী চলছে? নতুন বাংলায় ‘ইউপি ২.০’কে স্বাগত জানান বাঙালিরা।’ সিপিএম নেতা বিকাশ ভট্টাচার্যের দাবি, ‘তথ্য-প্রমাণ লোপাটের জন্য ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে। যে ফরমুলা অন্য রাজ্যে বিজেপি প্রয়োগ করছে, এখানেও তাই হচ্ছে।’ ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের রাজ্য সম্পাদক অভিজিৎ মজুমদার বলেছেন, ‘এনকাউন্টার রাজ নয়, আইনের শাসন ফেরানো হোক।’ যদিও বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, ‘সরকার কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। কোনো অপরাধীকে আর ছেড়ে রাখা যাবে না।’ তবে একটা অংশ বলছে, এই এনকাউন্টার বার্তা দিয়েছে দুষ্কৃতীদের— ঘৃণ্য অপরাধ করে পার পাওয়া যাবে না। আতঙ্ক ছড়িয়েছে ধৃত আনন্দ-দিবাকরের মধ্যেও। বুধবারই আবার এই ঘটনায় কবির মোল্লা নামে তাদের এক সঙ্গীকে বসিরহাট থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ফলে ধৃতের সংখ্যা হয়েছে চার।



