নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আধুনিক নিকাশি ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত পাম্পিং স্টেশনসহ যাবতীয় পরিকাঠামো থাকলেও বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন শহরের ‘বানভাসি’ হওয়ার ছবি সামনে আসে। কলকাতাও তার বাইরে নয়। কিন্তু শুধু পর্যাপ্ত আধুনিক পরিাকাঠামো থাকলেই হবে না। প্রয়োজন জলাশয় সংরক্ষণ, যেখানে বৃষ্টির জল ধরে রাখা যায়। জলাশয় বাঁচিয়েই শহরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। বিপর্যয় মোকাবিলা খাতে বরাদ্দ অর্থে কলকাতায় উন্নয়নের কাজ কীভাবে এগচ্ছে, বুধবার তা সরজেমিনে ঘুরে দেখেন ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটির মেম্বার অ্যান্ড এইচওডি কৃষ্ণ এস ভৎসা সহ প্রতিনিধি দল। তারপর এমন মতই প্রকাশ করেছেন তাঁরা। কয়েক বছর আগে কলকাতা পুরসভাকে বিপর্যয় মোকাবিলা খাতে এই বিশেষ তহবিল দেয় কেন্দ্র। সেই টাকায় কোথায় কেমন কাজ হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতেই দু’দিনের সফরে শহরে এসেছে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি দল। এদিন তাঁরা কুঁদঘাটের ইটখোলায় দু’টি বুজে যাওয়া জলাশয় পুনরুদ্ধারের কাজ পরিদর্শনে যান। সঙ্গে ছিলেন পুরসভার নিকাশি বিভাগের ডিজি শান্তনুকুমার ঘোষসহ অন্যান্য আধিকারিকরা। সেখানে শালবল্লা ব্যবহার করে পুকুর বা জলাশয়ের পাড় বাঁধানোর কাজ না করে পোড়ামাটির টালি দিয়ে পুকুর বাঁধানোর কাজ হয়েছে। প্রায় চার একর এলাকাজুড়ে গড়ে ওঠা নতুন জলাশয় ঘুরে দেখেন কেন্দ্রীয় আধিকারিকরা। জানা গিয়েছে, পুকুরে প্রায় ২০০ কেজি মাছ ছাড়া হয়েছে। তৈরি করা হয়েছে প্রশস্ত পাথর বাসনো ঘাট। গোটা পুকুর ঘিরে তৈরি হয়েছে ওয়াক ওয়ে। পুকুরের মাঝে তৈরি হচ্ছে মন্দির। লাগানো হবে সোলার প্যানেলও। নতুন করে মাটি কেটে প্রায় মজে যাওয়া পুকুরগুলি দখলদারের হাত থেকে বাঁচানো হয়েছে। পুকুরপাড়ের মাটির ক্ষয় রুখতে জিও-টেক্সটাইলের চাদর দিয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে। এটি মাটি বা পাথরের স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করে এবং ক্ষয় হ্রাসেও সাহায্য করে। আধিকারিকরা জানান, কেন্দ্রীয় অর্থপ্রাপ্তির শর্ত ছিল, পরিকাঠামগত উন্নয়নের কাজের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের কাজ করতে হবে। সেই লক্ষ্যেই পুরানো পুকুর সংস্কার করা হয়েছে।



