নিজস্ব প্রতিনিধি, কেশপুর: কংসাবতী নদীর ধারে গ্রামের যুবকরা নিপুণ হাতে শাড়িতে এমব্রয়ডারি করছেন। তাঁদের কাজ দেখে মুগ্ধ স্থানীয় গ্রামবাসীরাও। শিল্পীদের তৈরি নতুন ডিজাইনের শাড়ি যাচ্ছে আমেরিকা, আরব সহ বিভিন্ন দেশে। এতে লক্ষ্মীলাভ হচ্ছে গ্রামবাসীদের। কেশপুর ব্লকের মোহদিচক, রূপনারায়ণপুর সহ একাধিক গ্রামের অর্থনীতি বদলে দিয়েছে এমব্রয়ডারির কাজ। যুবকরা স্বনির্ভর হচ্ছেন। শিল্পীদের কথায়, যে কেউ পছন্দের নকশা দিলেই শাড়িতে সেই ডিজাইন করে দেওয়া হয়। দেশের নানা প্রান্ত থেকে শাড়ি তৈরির অর্ডার আসছে। জানা গিয়েছে, বর্তমানে শিল্পী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। যা এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করছে। এনায়েতপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মোহদিচক গ্রামের বাসিন্দা শেখ আখতার মহম্মদ বলেন, এমব্রয়ডারির কাজ খুবই কঠিন। একটি শাড়ি তৈরি করতে দীর্ঘ সময় লাগে। বহু কষ্ট করে এই কাজ শিখেছি। সারা দেশে এমব্রয়ডারি করা শাড়ির চাহিদা আছে। আমেরিকা, আরব, কুয়েত সহ বিভিন্ন দেশে শাড়ি গিয়েছে। ডিজাইন দেখালেই দ্রুত শাড়ি তৈরি করে দিতে পারব। তাতে খুব বেশি খরচ হবে না।
Advertisement
প্রসঙ্গত, একসময়ে কেশপুরজুড়ে রাজনৈতিক হানাহানি চলত। যার জেরে অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে পড়েছিল এই এলাকা। শিল্পীরা কোনও সুযোগ সুবিধা পেতেন না। সরকার বদলের পর পরিস্থিতিও বদলাতে শুরু করে। কেশপুর ব্লকের এনায়েতপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বহু গ্রামে এমব্রয়ডারির কাজ হয়। প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে এই কাজ করছেন শিল্পীরা। যেহেতু নদী তীরবর্তী গ্রামে শিল্পীদের বসবাস, তাই ভরা বর্ষায় শিল্পীদের সমস্যায় পড়তে হতো। সেই কথা মাথায় রেখে বাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, একটি শাড়িতে এমব্রয়ডারি করতে প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগে। চার হাজার থেকে শুরু করে পঞ্চাশ হাজার টাকা দামেও বিক্রি হয় সেইসব শাড়ি। তবে শাড়ি বিদেশে গেলে লাভ বেশি হয়। তবে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির জেরে সমস্যায় পড়েছেন শিল্পীরা। তাঁদের কথায়, আগে এমব্রয়ডারি কাজের জন্য ব্যবহৃত চুমকির দাম ছিল ৩০ টাকা প্রতি প্যাকেট। বর্তমানে এক প্যাকেট চুমকির দাম ৯০ টাকা।
এর ফলে সমস্যায় পড়েছেন শিল্পীরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, বর্তমানে এলাকায় শান্তি ফিরেছে। রাজনৈতিক হানাহানি নেই। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধাও পাচ্ছেন মানুষ। তবে এই এমব্রয়ডারির মার্কেটিং খুবই নিম্নমানের। প্রচার কম। অনেকেই জানেন না কেশপুরে এমব্রয়ডারির কাজ হয়। এমব্রয়ডারি শিল্পী শেখ মনির মহম্মদ বলেন, টানা কাজ করলেও পাঁচ-ছ’ দিন সময় লাগে। রাজ্য সরকারের তরফে বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছি। এবার শিল্পীদের জন্য একটি এমব্রয়ডারি হাব তৈরি হলে উপকৃত হব।
এর ফলে সমস্যায় পড়েছেন শিল্পীরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, বর্তমানে এলাকায় শান্তি ফিরেছে। রাজনৈতিক হানাহানি নেই। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধাও পাচ্ছেন মানুষ। তবে এই এমব্রয়ডারির মার্কেটিং খুবই নিম্নমানের। প্রচার কম। অনেকেই জানেন না কেশপুরে এমব্রয়ডারির কাজ হয়। এমব্রয়ডারি শিল্পী শেখ মনির মহম্মদ বলেন, টানা কাজ করলেও পাঁচ-ছ’ দিন সময় লাগে। রাজ্য সরকারের তরফে বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছি। এবার শিল্পীদের জন্য একটি এমব্রয়ডারি হাব তৈরি হলে উপকৃত হব।



