


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভোরের অন্ধকার না কাটতেই কলকাতা শহরের বুকে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। শুক্রবার ভোরে আর.জি. কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার ভবনে লিফটে মৃত্যু হল অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তির। মৃতের পরিবার তরফে জানাযায়, তাঁর চার বছরের সন্তানের পা ভাঙার চিকিৎসার জন্য গতাকাল রাতেই স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন তিনি। আজ সকালে সন্তানকে নিয়ে লিফটে করে তিনজন চতুর্থ তলার ওয়ার্ডে যাচ্ছিলেন। কিন্তু সেই লিফটটি চতুর্থ তলায় না গিয়ে সোজা নিচের দিকে নামতে থাকে। লিফটটি পৌঁছে যায় বেসমেন্টে। সম্ভবত, লিফটির তার ছিঁড়েই নিচের দিকে নেমে যায়। তিনজনই আটকে পড়েন লিফটের ভিতরেই। তাঁদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। সেই সময় হঠাত্ লিফটের দরজা খুলে যায় ও তাঁদের সন্তান লিফট থেকে বেড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেই লিফটটি পুনরায় উপরের দিকে উঠতে শুরু করে। সেই মুহুর্তে অরূপবাবু তার সন্তানকে ভিতরে নিয়ে আসার জন্য চেষ্টা করেন। বাচ্চাকে উদ্ধার করতে পারলেও নিজে দেওয়াল ও লিফটের মাঝে পিষে যান। গুরুতর আহত হন তিনি। তার কিছুক্ষণ পরেই মৃত্যু হয় তাঁর। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় টালা থানার পুলিশ। লিফটটিকে ঘিরে ফেলা হয়।
কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভিন্ন মত, হাসপাতাল সুপার সপ্তর্ষি চট্টপাধ্যায় জানান, ' লিফটটির কোনও তার ছিঁড়ে যায়নি। লিফটের ভিতর থেকে আটকে থাকা তিনজনকেই উদ্ধার করা হয়েছিল। বাচ্চাটির কোনও আঘাতের চিহ্ন না থাকলেও মায়ের আল্প কিছু আঘাত ছিল। অপরদিকে বাবার গুরুতর আঘাত ছিল। তড়িঘড়ি তাঁদের উদ্ধার করে চিকিত্সার জন্য নিয়ে যাওয়া হলে চিকিত্সকরা অরুপবাবুকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। কিন্তু তাঁর শরীর থেকে কোনও রকম পিষে যাওয়ার চিহ্ন নজরে আসেনি। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
লিফটি ঘিরে ফেলা হয়। কী কারণে এমন দুর্ঘটনা ঘটল তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা। লিফটটির কোনও যান্ত্রিক গোলযোগ ছিল কি না তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।