সংবাদদাতা, নাগরাকাটা: সাতসকালেই মূর্তি নদীতে স্নান সেরে নিয়েছিল হিলারি, কাবেরী, জেনি, বসন্ত। এরপর পিলখানায় ‘বিউটি পার্লারে’ রীতিমতো দু’ঘণ্টা ধরে চলে তাদের সাজগোজ। চক-খড়ি দিয়ে গ্রামের মহিলারা সাজিয়ে তোলেন ওদের। বিশ্বকর্মার বাহন হিসেবে পুজো হবে তাদের, বুধবার এই খুশিতেই মশগুল ছিল গোরুমারার ধূপঝোরা কিংবা মেদলার কুনকি হাতির দল। এদিন গোটা দিনটাই যেন ওদের ছিল। ডিউটিতে সবেতন ছুটি। নিজেদের পুজো শেষে আয়েশ করে পছন্দের খাবার খাওয়া। সাথীদের সঙ্গে জমিয়ে দিনভর খুনসুটি। মাঝেমধ্যে পর্যটকদের আব্দার মেনে শুঁড় উঁচিয়ে, মাথা নেড়ে ছবির জন্য পোজ দেওয়া। সবমিলিয়ে মুগ্ধ পর্যটকরাও। মুহূর্তকে মোবাইল বন্দি করতে চলল দেদার ছবি তোলা আর সেলফি।
শুধু হিলারি, কাবেরীরা নয়, কলি, কৃষ্ণ, বীর, ভীমের মতো গোরুমারার কুনকিদেরও যেন আনন্দের সীমা ছিল না এদিন। একইভাবে হাতিদের নিজের হাতে খাবার খাওয়াতে পেরে খুশিতে ফুটছিলেন বেহালা থেকে বেড়াতে আসা সোহিনী ভট্টাচার্য ও শ্রাবণী রায়। হাতির সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি তাঁরা।
দুপুরে মেটেলির বিভিন্ন ক্যাম্পের পিলখানায় মোট ২২টি হাতির পুজো হয়। গোরুমারা, মেদলা, টন্ডুর ক্যাম্পের পিলখানাতেও আয়োজন ছিল হাতিপুজোর। ধূপঝোরা এলিফ্যান্ট ক্যাম্পে হাতিপুজো দেখতে পর্যটকদের ভিড় জমে যায়।
নিজেদের পুজোয় সকাল থেকে উপোস করে ছিল কুনকির দল। পুজো শেষে তাদের খেতে দেওয়া হয় ফলমূল। আখ, আপেল, আঙুর, নাসপাতি। বনদপ্তরের কর্মীদের পাশাপাশি হাতিপুজোয় শামিল হন পর্যটক ও বনবস্তির বাসিন্দারাও। হাতিপুজো দেখতে আসা সকলকেই এদিন খাওয়ানো হয় পাত পেড়ে। মেনুতে ছিল খিচুড়ি, সঙ্গে কাবলিছোলা দিয়ে পনিরের তরকারি।
১৯৯৬ সাল থেকে ধূপঝোরা এলিফ্যান্ট ক্যাম্পে বিশ্বকর্মা পুজোর দিন হাতিপুজো হয়ে আসছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। প্রথমে বিশ্বকর্মার পুজো, তারপর হাতিপুজো। পুরোহিতের মন্ত্রোপাঠের পাশাপাশি উলু-শঙ্খধ্বনিতে এই পুজো ঘিরে তৈরি হয় অন্য আবহ।
ধূপঝোরায় হিলারি, কাবেরী, বসন্ত, জেনি, কৃষ্ণরা যেমন এদিন পুজো পেয়েছে, তেমনই গোরুমারায় পুজো হয়েছে তিস্তা, ভোলানাথ, মোতিরানি, নটরাজ, যুবরাজ, চম্পার। মেদলা ক্যাম্পে পুজো করা হয় বনদপ্তরের কুনকি অরণ্য, রাজা, শিলাবতী, আমনা, কলিকে। টন্ডু ক্যাম্পে এদিন পুজো পায় কিরণরাজ, বর্ষণ, গরাতিতে পুজো পেয়েছে মানিক, শ্রাবণী, বীর, ভীম।
ধূপঝোরার বিট অফিসার জীবন বিশ্বকর্মা বলেন, নিয়মনিষ্ঠার সঙ্গে এদিন হাতিপুজো হয়েছে। জঙ্গলের পাশাপাশি হাতি সংরক্ষণের বার্তা দিতেই এই পুজোর আয়োজন করা হয়েছিল। বনবস্তির বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটকরাও হাতিপুজোয় শামিল হন। তাঁরা বেশকিছুটা সময় হাতিদের সঙ্গে কাটিয়েছেন। নিজেদের হাতে হাতিকে খাওয়ানোর সুযোগ পেয়েছেন। নিরাপদ দূরত্ব থেকে হাতির সঙ্গে ছবি তোলারও সুযোগ পেয়েছেন।